রিলিজের আগে থেকেই প্রভাস, কৃতি স্যানন এবং সইফ আলি খান অভিনীত ‘আদিপুরুষ’ বিতর্কের মুখে পড়েছিল। তথ্যবিকৃতির অভিযোগ তুলেছিল গেরুয়া শিবির। রিলিজের পর যেন সেই বিতর্ক আরও বাড়ল। ওম রাউত পরিচালিত এই সিনেমাটির বিরুদ্ধে দিল্লির হাইকোর্টে আগেই পিটিশন দায়ের করেছে হিন্দু সেনার দল। এবার ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ তুলে থানায় গেল এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।
সোস্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখলে একটা বিষয় নিয়েই জল্পনা চলছে, আর তা হল রামায়ণের কাহিনি আশ্রয় করে নির্মিত সিনেমা আদিপুরুষ। হনুমানের সংলাপ থেকে শুরু করে রামের বেশভূষা, রাবণের দশমাথার অবস্থান– এক কথায়, গোটা সিনেমাটিই প্রশ্নের মুখে। আর সেই কারণে এই ছবির প্রদর্শন বন্ধ করার দাবি জানানো হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে।
রামের পায়ে চামড়ার জুতো কেন? তিনি তো খড়ম পরতেন৷ কিংবা হনুমান কেন বলছেন, “তেল তেরে বাপ কা, জলেগি তেরে বাপ কি”? এই ধরনের সংলাপ কী কারণে? আর প্রধান চরিত্র রামচন্দ্র? এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন প্রভাস। কিন্তু প্রভাসকে যতটা না রাম মনে হয়েছে, তার চেয়ে বেশি মনে হয়েছে, তিনি যেন কর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। যোদ্ধা হিসেবে দেখানো হয়েছে রামচন্দ্রকে। এখানেই শেষ নয়, রাবণের দৃশ্যেও নানা ত্রুটি বিচ্যুতি নিয়ে সোস্যাল মিডিয়া এখন উত্তাল৷ হিন্দু সেনার তরফে ইতিমধ্যেই পিটিশন দায়ের হয়েছে। এই সংগঠনের জাতীয় সভাপতি বিষ্ণু গুপ্তের অভিযোগ, ‘আদিপুরুষ’-এ পৌরাণিক হিন্দু চরিত্র রাম, রাবণ, সীতা এবং হনুমানের ভাবমূর্তি নষ্ট করা হয়েছে। সেই মর্মে বেশ কিছু ‘আপত্তিকর’ দৃশ্য রয়েছে বলে সেগুলি ওই ছবি থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানানক হয়েছে। এছাড়া বাল্মীকির রামায়ণের কাহিনি থেকে সিনেমাটি নির্মিত হলেও এখানে যা দেখানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ বিপরীত। যা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ভাবাবেগে আঘাত হানছে বলেই মত হিন্দু সেনার।
তবে এবার ওম রাউত পরিচালিত প্রভাস, কৃতি স্যানন এবং সইফ আলি খান অভিনীত ‘আদিপুরুষ’আইনি জটিলতার মুখে। ৫০০ কোটি বাজেটের এই ছবির প্রযোজক পরিচালকের বিরুদ্ধে আন্ধেরি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে মুম্বইয়ের এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।
হাস্যকর ভিএফএক্স এবং অত্যন্ত দুর্বল চিত্রনাট্যের আদিপুরুষ সিনেমাটি নিয়ে মুখ খুলেছেন মুম্বইয়ের ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সভাপতি পৃথ্বীরাজ মাস্কে। সংস্থার তরফে অভিযোগ জানানো হয়েছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ভাবাবেগে আঘাত হানা নিয়ে। এই ছবির সব চরিত্রেই কিছু ত্রুটিবিচ্যুতি, ভ্রান্তি আছে বলে মত তাদের। সীতার পরনের শাড়ি থেকে শুরু করে রামচন্দ্র চরিত্রের চিত্রায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা। রামচন্দ্র পুরষোত্তম, কিন্তু ছবিতে রামকে এক যোদ্ধার চরিত্রে দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ পত্রে জানিয়েছে ওই সংস্থা। এখানেই শেষ নয়, রাবণের দুর্গা সোনার বদলে কেন পাথরের তৈরি দেখানো হয়েছে? সেই প্রশ্নও উঠেছে।
তবে ৫০০ কোটির যে ছবি নিয়ে এত সমালোচনা, তা কি বক্স অফিসে ভাল রেজাল্ট করল? সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, ছবির ব্যবসায়িক সাফল্যে তেমন কিছু প্রভাব পড়েনি। দু-দিনে প্রায় ২৪০ কোটি আয় করেছে আদিপুরুষ। শুধু তাই নয়, এত নেতিবাচক সমালোচনার মধ্যেও আদিপুরুষ সিনেমা দেখার জন্য দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাসও ধরা পড়েছে।
