যেকোনও আন্তর্জাতিক মঞ্চের ক্রিকেটারের কাছে বিশ্বকাপ মানে একটা আবেগ। জাতীয় দলের জার্সিতে নিজেদের সেরা প্রমাণ করার এত বড় সুযোগ আর কীই বা হতে পারে! কিন্তু সেই বিশ্বকাপের তিনমাস আগেই অবসরের সিদ্ধান্ত নিলেন ওপার বাংলার জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক তামিম ইকবাল? ভক্তদের কাঁদিয়ে কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তামিম?
এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সঙ্গে আফগানিস্তানের সিরিজ চলছে। সেখানে অবশ্য প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে পরাজয় স্বীকার করে নিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। সেদিক থেকে ০-১ -এ পিছিয়ে রয়েছে তারা। আর এই পরিস্থিতিতেই মাঝপথে থামিয়ে দিলেন নিজের পথচলা! বাংলাদেশের ক্যাপটেনকে ঘিরে উঠছে নানা জল্পনা। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে এক দিনের সিরিজ়ের মাঝেই অবসরের সিদ্ধান্ত জানালেন তামিম ইকবাল। বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায়ের কথাই তামিম ঘোষণা করলেন।
এদিনের সাংবাদিক বৈঠক যে কিছু সময় পরই বড় গুরুগম্ভীর হয়ে উঠবে, তা বোধহয় বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কেউ ঘূণাক্ষরেও টের পাননি। চট্টগ্রামে সাংবাদিক বৈঠক ডাকেন তামিম ইকবাল। সেখানে কথায় কথায় তোলেন অবসরের প্রসঙ্গে। আচমকাই ঘোষণা করে দেন ইতির কথা। নিজের সেরাটা দিয়েছেন বলে স্বীকার করে এদিন তামিম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করেন।
১৬ বছরের কেরিয়ার তামিমের। আর এই ১৬ বছরের যাত্রাপথে পাশে থাকার জন্য সতীর্থ, কোচ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং সর্বোপরি নিজের পরিবারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তামিম কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন বাংলাদেশের সমর্থকদের কাছেও। দেশের জার্সিতে একদিনের ক্রিকেটে ১৪টি শতরানের মালিক তামিম। ২০০৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তার কেরিয়ার শুরু। মোট ২৪১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি। তার ঝুলিতে রয়েছে ৮৩১৩ রান। সর্বোচ্চ ১৫৮ রানের ইনিংস
খেলার সাফল্যও রয়েছে বাংলাদেশের এই বাঁ হাতি ওপেনারের ঝুলিতে। স্বাভাবিকভাবে তামিমকে নিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের অনেকেই আশাবাদী। কিন্তু বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণার পর আচমকাই যেন থমথমে হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। আবেগ সামলাতে পারেন না খোদ তামিমই। বৈঠক চলাকালীন কেঁদে ফেলেন।
কিন্তু কেন এই সিদ্ধান্ত নিলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক? কী এমন হল যে, অধিনায়ককে হঠাৎই অবসর ঘোষণা করতে হল? উঠছে এমনই নানা প্রশ্ন। বিশেষত আর তিনমাস পর ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তামিম ইকবাল।
বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ডকে এদিন তামিম ধন্যবাদ জানালেও আচমকা এই সিদ্ধান্তে যে বোর্ডের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব চলে এল, তেমনটাই মনে করছেন ক্রীড়াপ্রেমীদের একাংশ। তামিম এখন প্রাক্তন অধিনায়ক। অধিনায়ক হিসেবে বাংলাদেশের একদিনের ক্রিকেট দলের জার্সিতে এবার কাকে দেখা যাবে, তা নিয়েই শুরু হয়েছে আলোচনা। তবে তামিমের এই সিদ্ধান্তের প্রকৃত কারণ ঠিক কী, তা এখনও জানা যায়নি। এই নিয়ে মুখ খোলেননি তামিম নিজেও।
তামিমের পর বাংলাদেশের অধিনায়ক হিসেবে একদিনের ক্রিকেটে কাকে দেখা যাবে? এই প্রশ্নের যথাযথ উত্তর এখনও পর্যন্ত মেলেনি। তবে অনুমান করা হচ্ছে, শাকিব আল হাসান বা লিটন দাসের মধ্যে কাউকে সিরিজ়ের বাকি ম্যাচের দায়িত্ব দেওয়া হলেও হতে পারে। এমনিতেই টেস্ট ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে লিটন দাস নিজের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন এখন। অন্যদিকে শাকিব আল হাসান অধিনায়কত্ব করছেন বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট দলের। তাই লিটন দাস ও শাকিব আল হাসানকে এই তালিকায় রাখছেন ক্রিকেট প্রেমীদের একাংশ। তবে এরই মাঝে প্রশ্ন উঠছে তামিমকে নিয়ে। তামিমের এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে অন্য কোনও রহস্য নেই তো? নইলে কেন সিরিজ চলাকালীন আচমকাই অবসর নিলেন তিনি?
