পঞ্চায়েত নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবার ময়দানে খোদ রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। যুদ্ধকালীন তৎপরতা চলছে রাজভবনের ‘পিসরুমে’। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হিংসা ও অশান্তির ইতিমধ্যে গুচ্ছের অভিযোগ জমা পড়ছে সেই পিসরুমে। ফোন আসছে একের পর এক। তবে রাজ্যপালের নেতৃত্বে ওএসডি সন্দীপ সিং সহ রাজভবনের কর্মীরা তৎপর রয়েছেন পরিস্থিতি সামাল দিতে।
আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভাঙড়ের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মনোনয়ন পর্বে গুলিচালনার ঘটনাও প্রকাশ্যে আসে। আর এই নিয়ে গোটা রাজ্যে চর্চা শুরু হলে ভাঙড়ের সেই এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এদিন তিনি এলাকার মানুষের সঙ্গে কথাও বলেন। এরপরই রাজভবনের তরফে কন্ট্রোল রুম খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেখানে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যে তৈরি হওয়া অশান্তির অভিযোগ শুনবেন কর্তব্যরত অফিসাররা। রাজভবনের পিস ভবনে এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন খোদ রাজ্যপাল বোস।
রাজভবনের এই কন্ট্রোল রুম ২৪ ঘণ্টাই পরিষেবা দেবে বলে জানিয়েছেন সেখানকার কর্মীরা। ফোন কল ছাড়াও ই-মেলের মাধ্যমে অভিযোগ করা যাচ্ছে এই কন্ট্রোল রুমে। ইতিমধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ জানিয়েছে বিজেপি শিবির, এমনটাই সংবাদসূত্র জানা গেছে। এলাকার ভিত্তিতে ভাঙড়, ক্যানিং, মুর্শিদাবাদ থেকে অভিযোগ আসছে ভূরি ভুরি। যদিও একে কন্ট্রোল রুম বলতে রাজি নন রাজ্যপাল। তার কথায়, এটি আসলে পিস রুম। রাজ্যের মানুষের অভিযোগ শুনে তা সমাধানে ‘ইন্সস্ট্যান্ট রেমিডি’ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজ্যপাল হিসেবে রাজ্যবাসীকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব রয়েছে বলে জানান সিভি আনন্দ বোস। তাই রাজ্যবাসীর হয়েই তিনি এই কাজ করছেন। সামনেই নির্বাচন। আর এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন রাজ্যপাল। কিন্তু সেই সমস্যার কথা ধৈর্য ধরে শোনার জন্য কাউকে দরকার। এই পিসরুম-ই সেই কাজই করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিজেপি ছাড়াও সিপিআইএম ও কংগ্রেসের তরফেও অভিযোগ আসছে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে। সেই অভিযোগ শুনে তার যথাযথ সমাধানের চেষ্টাও করা হচ্ছে। সম্প্রতি মালদহের ইংরেজবাজারে বাঁশ দিয়ে পেটাতে পেটাতে বিজেপি প্রার্থীর ভাইকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও এসেছে রাজভবনের এই পিস রুমে। ইংরেজবাজারের বিজেপি বিধায়ক শ্রীরূপা মিত্র জানিয়েছেন সেই কথা। তবে তিনি এও বলেছেন, রাজভবনের পিস রুমে যোগাযোগের আগে এলাকার অনেকেই পুলিশকে ফোন করেছেন। কিন্তু কোনও সদুত্তর পাননি তারা। ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটকেও ফোন করা হয়েছে। কিন্তু তাতেও কোনও সুরাহা হয়নি। এরপরই ইংরেজবাজারের বিধায়ক রাজভবনে জানিয়েছেন। রাজ্যপালকেও ভোর নাগাদ তিনি জানিয়েছেন। পিস রুম এই পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেয়, সেদিকেই চেয়ে রয়েছে বিরোধী শিবির তথা ওই এলাকার মানুষ।
