সিভিক ভলেন্টিয়ারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বেশ কিছুদিন ধরেই। আনিস খানের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য জুড়ে তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছিল। সম্প্রতি সিভিক ভলেন্টিয়ার ইস্যুতে কড়া সিদ্ধান্ত জানিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। এবার এই বিষয়ে আবারও রাজ্য সরকারকে বিশেষ বার্তা দিল উচ্চ আদালত। এদিন আনিস খানের মৃত্যুর প্রসঙ্গও তোলেন বিচারপতি।
সিভিক ভলেন্টিয়ারদের দিয়ে কোনও প্রশাসনিক কাজ করানো যাবে না। উল্টে হাইকোর্টের নির্দেশে তড়িঘড়ি বেঁধে দেওয়া তাদের এক্তিয়ারের তালিকা। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সিভিক ভলেন্টিয়ারদের নিয়ে অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে শোনা যাচ্ছিল। তাছাড়া রাজ্য জুড়ে নানা ঘটনায় সিভিকদের বিরুদ্ধে আঙুল উঠেছে। এক্ষেত্রে আনিস খানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তো রাস্তায়ও নেমেছিল বাম দলের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার সিভিক ইস্যুতে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার বক্তব্যে উঠে এসেছে সেই আনিসের প্রসঙ্গও। সংবাদ সূত্রে জানা যায় এদিন তিনি জানান, আনিস খানের মৃত্যুর ঘটনাতেও দু’জন সিভিক ভলান্টিয়ার ওই রাতে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন। এই ঘটনাকে বিচারপতি দুর্ভাগ্যজনক বলেও ব্যাখ্যা করেন।
প্রশাসনিক ক্ষেত্রে কি সিভিক ভলেন্টিয়ারদের ওপরই ভরসা রাখছে রাজ্য সরকার? পুলিশে নিয়োগ নিয়ে কতটা উদ্যোগী রাজ্য সরকার? এমন প্রশ্ন বিরোধীদের একাংশের মুখে মাঝেমধ্যেই শোনা গেছে। এবার হাইকোর্টে বিচারপতি মান্থার বয়ানের শোনা গেল প্রায় একই সুর। পুলিশে নিয়োগ নিয়ে আরও উদ্যোগী হওয়া উচিত রাজ্য সরকারের, এমনটাই বক্তব্য বিচারপতির। এদিন বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এক্ষেত্রে রাজ্যের প্রকৃত সমস্যার কথা জানান। তাঁর কথায়, রাজ্যের আসল সমস্যা হল পুলিশে নিয়োগ না করা। এই কারণেই যে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের উপর রাজ্য ভরসা করছে, তেমনটাও জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশের কাজ সিভিক ভলান্টিয়াররা করছে বা প্রশাসনিক কাজে সিভিকদের ব্যবহার করা হচ্ছে। এই অভিযোগ নতুন নয়। কনস্টেবল, এসআই এবং এএসআই নিয়োগ করা না হলে উপায়ও নেই বলে জানান বিচারপতি। কিন্তু এর ফলে সমস্যা বাড়বে বই কমবে না বলেও জানান তিনি।
বেহালার সরশুনা থানার বিরুদ্ধে সম্প্রতি উঠেছিল অভিযোগ। সেখানেও সিভিক ভলেন্টিয়ারদের বিরুদ্ধে আঙুল ওঠে। এরপরই উচ্চ আদালতে যায় সেই অভিযোগ। সিভিক ভলান্টিয়ারদের কী ভূমিকা রয়েছে বা কোন কোন কাজে তাঁদের ব্যবহার করা হয়, তাও জানতে চাওয়া হয় আদালতের তরফে। এবার পুলিশে নিয়োগ নিয়েও রাজ্যকে বিশেষ বার্তা দিল উচ্চ আদালত।
