বিধায়কের যে কান্ড শোনা যাচ্ছে তা শুনলে হয়তো আপনারও ছোটবেলার চোর পুলিশ খেলার কথা মনে পড়ে যাবে। সর্বক্ষণের সঙ্গী কেও নাকি ছুড়ে ফেলা দেওয়া হয়েছে জলে অর্থাৎ তার মোবাইল ফোনটি
কাজে লাগিয়েছে নাকি তার বাড়িতে থাকা এক চিলতে সিঁদুরের কৌটোও নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে এবারে উঠে এলো আরো এক বিধায়কের নাম দুর্নীতির এই নয়া কাহিনী শুনলে চোখ কপালে উঠতে পারে আপনারও।
ঠিক যেন রহস্য রোমাঞ্চে ভরা কাহিনি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই আসার খবর পেতেই মোবাইল ফোন পুকুরে ছুড়ে ফেললেন তৃণমূল বিধায়ক! রিল না রিয়েল, ধরতে পারবেন না।
নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে এমনিতেই কোণঠাসা শাসকদল। নাম উঠে এসেছে একের পর এক তৃণমূল নেতা মন্ত্রীর। এবার নাম উঠে এল তৃণমূল বিধায়কের। নিয়োগ দুর্নীতিতে কি তাহলে এবার নতুন মুখ? সংবাদ মাধ্যম সূত্রে দাবি ওই তৃণমূল বিধায়কের বাড়ি থেকে যা নথি পাওয়া গেছে, তা দেখে চোখ কপালে তদন্তকারী দলের। শুধু তাই নয়, হার্ড ডিস্ক থেকে মেমরি কার্ড রাখার কৌশলও অবাক করেছে তদন্তকারী আধিকারিকদের এমনটাই দাবি।
টানা ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ। সংবাদসূত্রে দাবি, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা হানা দিতেই গোপন নথি সরিয়ে ফেলেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। সূত্রের দাবি পাঁচিল টপকে পালানোরও চেষ্টা করেছিলেন নাকি তিনি। তবে তা সিবিআই অফিসারদের নজর এড়াতে পারেনি। সিবিআই কড়া ধমক দেন জীবনকৃষ্ণকে। এরপরই সামনে আসে একের পর এক তথ্য। মেমরি কার্ড–হার্ডডিস্ক কোথায়? কড়া ধমক দিয়ে এই প্রশ্ন করতেই তৃণমূল বিধায়ক যা জবাব দেন, তাতে চক্ষু চড়কগাছ সিবিআই আধিকারিকদের। সিঁদুরের কৌটোর মধ্যে মোবাইলের মেমরি কার্ড এবং পুকুরের জলে হার্ডডিস্ক রেখে দিয়েছিলেন জীবনকৃষ্ণ সাহা। এছাড়াও দুটি পেন ড্রাইভ জলে ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। তবে কি নিজেকে বাঁচাতে তথ্যপ্রমাণ লোপাট করতে চেয়েছিলেন বড়ঞার তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। সংবাদ মাধ্যমে দাবি, জীবনকৃষ্ণের বাড়ি থেকে মিলেছে চাকরিপ্রার্থীর একটি তালিকা ও ৬টি ব্যাগ।
দুর্নীতি কাণ্ডে বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে জিজ্ঞাসাবাদ সিবিআই এর। তার বাড়িতে মিলল দু’বস্তা নথি! সবচেয়ে অবাক করা তথ্য হল, নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে যখন একাধিক তৃণমূল নেতা মন্ত্রীর নাম উঠে এসেছে, এই আবহেই প্রাইমারি, আপার প্রাইমারি এবং নবম-দশমের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার চাকরিপ্রার্থীদের অ্যাডমিট কার্ড পাওয়া গেল বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার বাড়িতে।
শুধু তাই নয়, মিলেছে একটি ডায়েরিও। এই ডাইরিতে কী রয়েছে? তদন্তকারী আধিকারিকরা অনুমান করছেন, উদ্ধার হওয়া ওই ডাইরিতে মিলতে পারে নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত লেনদেনের হিসাব।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ শনিবার সকাল থেকে জীবনকৃষ্ণের দুই আত্মীয়ের বাড়িতেও তল্লাশি চালিয়েছে তদন্তকারীরা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি রাজ্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে তৃণমূল বিধায়কের বাড়ির সামনে।
তবে সিবিআই এর খবর পেয়েই পুকুরে ফেলে দেওয়া হয় সর্বক্ষণের সাথী মোবাইল আর তারই খোঁজ করেছে সিবিআই। রাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ আলো না থাকায় তা বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে সকাল থেকেই শুরু হয়েছিল মোবাইল খোঁজার কাজ। বেলা ১ টা পর্যন্ত মেলেনি মোবাইল ফোন।
