পরমহংস শ্রীরামকৃষ্ণদেব এমন এক আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব যার প্রসঙ্গ উঠলে মাথা নত করেন তাঁবড় তাবড় সমাধির অনুভূতিপ্রাপ্ত সাধু সন্তগন। তাকে বাদ দিয়ে ভারতীয় দর্শন হয় না। তাকে বাদ দিয়ে গোটা যোগ শাস্ত্রের পড়াশোনাও হয় না।
ভারতীয় সনাতনে যত শত সাধন পদ্ধতির আছে সব কটিতেই তিনি শীর্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন। এমনকি সেই সময় তিনি যে পথের সুম্মুখীন হয়েছিলেন, যেমন ইসলাম, খ্রিস্টীয়, ফার্সী ইত্যাদি বিজাতীয় সাধন পদ্ধতি গুলিতেও শীর্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন।
আর তার জীবন কোনো পৌরাণিক যুগে ঘটিত হয়ে যাওয়া গল্পকথা নয়। মাত্র প্রায় দেড়শ বছর আগে এই কলকাতায় ঘটেছিল মাত্র 50 বছরের তাঁর এই ঈশ্বর তুল্য জীবন কাহিনী । সুতরাং, গবেষণার নাম করে তার সম্পর্কে দশ রকম নেতিবাচক তথ্য উপস্থাপন করে দেওয়াও সম্ভব নয়।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ঠাকুর পরিবার থেকে শুরু করে গিরিশ ঘোষ পর্যন্ত সেই সময়কার বহু জ্ঞানীগুণী বুদ্ধিজীবীরা বহু তথ্য প্রমাণ রেখে গেছেন শ্রীরামকৃষ্ণদেবের ঈশ্বর তুল্য অবস্থা সম্পর্কে। আর তার দামাল চেলা বিলের কথা তো বলাই বাহুল্য যে বিলে শুধুমাত্র তারই স্পর্শেই স্বামী বিবেকানন্দ রূপে ধন্য হয়ে, বিশ্বব্যাপী ভারতীয় সনাতনের স্বগৌরব উপস্থিতি প্রথম ছড়িয়ে দিয়েছিলেন।
তাই কেবলমাত্র শ্রীরামকৃষ্ণের মত এইরকম একজন ঈশ্বরলীন মানুষ, যিনি সাধনার সমস্ত মত এবং পথের শেষ দেখেছেন, শুধু দেখেন ই নি বরং সেই পথে সাধনা করে ঈশ্বর নামক অধরা বস্তু পর্যন্ত পৌঁছেছেন, তিনিই বলতে পারেন এমন একটি কথা যে
“যত মত তত পথ”
তাই এহেন পরমহংসদেবের এই গভীর অভিজ্ঞতার সহজ ব্যাখ্যা নিয়ে ইসকনের এক স্বামীজির অসংলগ্ন মন্তব্য করার ব্যাপারটিকে সহজে নিতে পারেনি সমাজ। আর তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ইসকনের এই অমোঘ লীলা প্রভুর মন্তব্য নিয়ে তাই নিন্দার ঝড় উঠেছে। কেউ কেউ মনে করছেন গৈরিক বসন পরা এক সন্ন্যাসী কিভাবে এরকম নিন্দা স্তুতিতে আটকে থাকতে পারেন? কিভাবে এক পরমহংসের মন্তব্য কে এমন হালকা ভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন?
রামকৃষ্ণের এই বাণী ভারতের প্রাচীন উপনিষদের তত্ব ‘একমএব দ্বিতীয় নাস্তি’ অর্থ্যাৎ তিনি এক, একের অতীত কোথাও দুই নেই আর ‘গোটা বিশ্ব জগৎ সেই একেরই ভিন্ন ভিন্ন প্রতিফলন মাত্র’ এই তত্বের সামনে সত্য হয়ে দাঁড়াতে পারে। আর প্রভু অমোঘ লীলা নিজে একজন সন্যাসী হয়ে কিভাবেই বা এক পরমহংস সাধকের এরূপ গভীর তত্বের নিন্দা করতে পারেন? সেকথা ভেবে বিস্ময় প্রকাশ করছেন অনেকে।
যত মত তত পথ কথাটি নিয়ে খিল্লি করতে করতে ইসকনের প্রভুজি মায়াপুর যাওয়ার নির্দিষ্ট পথের যে রূপক ব্যবহার করেছেন, তার জবাবে অনেকে বলছেন ‘দুনিয়াটাতো গোল তাই এই গোল দুনিয়ায় নানা পথে মায়াপুর যাওয়ার সম্ভাব এবং যে পথই ধরুন না কেন ভিন্ন ভিন্ন সময়ে আপনি মায়াপুরেই পৌঁছে যাবেন একথা অনেকেই মনে করিয়ে দিচ্ছেন তাকে।
তবে এই প্রভুজির এমন ঔদ্ধত্যকে হালকা ভাবে নেয়নি ইসকনও। ইসকন কলকাতার ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমন দাস এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন। ইসকন কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে আপাতত, প্রভু অমোঘ লীলাকে কোনরকম ধর্মীয় ভাষণ দেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
তার এই মন্তব্যের নিন্দা করতে ছাড়েননি তৃণমূল কমগ্রেস এর মুখপাত্র কুনাল ঘোষও।
ইসকনের এই গ্ল্যামারাস প্রভুজির মন্তব্য সম্পর্কে আপনার কি মতামত? নিচে কমেন্ট বক্স এ লিখে আমাদের নিশ্চই জানাবেন। দেশ তো দুনিয়ার নানান খবর ও তথ্য জানতে চোখ রাখুন বেঙ্গল লাইভ এ।
