ক্যালেন্ডারের হিসেবে এখন বর্ষাকাল। যখনতখন বৃষ্টি নামা এখন স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ঘটনা। এইসময় বাড়ির বাইরে বেরলে বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ার সম্ভাবনা। কাপড়চোপড় ভিজে গেলে অস্বস্তি। উল্টে, শরীর খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা। বৃষ্টিতে ভিজলে অনেকেরই জ্বর, মাথাব্যথা, সর্দিকাশি ইত্যাদি সমস্যা হয়। অনেকের ধারণা, বৃষ্টিতে ভিজলে শরীরে রোগজীবাণুর সংক্রমণ হয়, যার ফলে শরীর বিগড়ে যায়। তাই বৃষ্টিতে ভিজতে অনেকেই ভয় পান। কিন্তু গবেষকরা বলছেন, এই ধারণা পুরোপুরি ঠিক না। বাস্তবে একেবারে উল্টো ঘটনা ঘটে। অল্পস্বল্প বৃষ্টিতে ভিজলে শরীরের মোটেই কোনও ক্ষতি হয় না। বরং মন ও মগজ একেবারে চনমনে হয়ে ওঠে। রোগবালাই তাড়াতেও বৃষ্টির জলের জুড়ি নেই। বৃষ্টিতে ভেজা তাই মানুষের জন্য বড়ই দরকারি। আসুন, জেনে নেওয়া যাক, বৃষ্টিতে ভেজার উপকারিতা কী কী?
বর্তমান সময়ে ঘরে ঘরে মারণ রোগ মাথাচাড়া দিচ্ছে। হাই ব্লাডপ্রেসার, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, থাইরয়েড সহ নানা অসুখের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত স্ট্রেস বা মানসিক চাপ। নানা সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, তুমুল বৃষ্টিতে ৫ মিনিট ভিজলে স্ট্রেস লেভেল কমে যায় নিমেষে। শরীরের ক্লান্তি বা অবসন্নতাও গায়েব হয়ে যায় একেবারে। এছাড়া, বৃষ্টির জলে ত্বকের সৌন্দর্যও বাড়ে। বৃষ্টির সময় পরিবেশে উপস্থিত জলীয় বাষ্প স্কিনের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। শুধু তাই-ই নয়, বৃষ্টির পরপর জলীয় বাষ্প বেড়ে যাওয়ার ফলে পরিবেশে থাকা ক্ষতিকর জীবাণুগুলির সক্রিয়তা ও কর্মক্ষমতা কমে যায়। বৃষ্টির জলে ত্বক আরও উজ্জ্বল এবং মসৃণ হয়ে ওঠে। কারণ, বৃষ্টির জল ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার করে। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই ত্বক তার হারানো ঔজ্জ্বল্য ফিরে পায়।
অনেকে বলেন, বৃষ্টিতে ভিজলে নাকি চুলের বারোটা বাজে। কিন্তু গবেষকরা মনে করেন, এই ধারণা মোটেও ঠিক নয়। তাদের মতে, বৃষ্টির জল সাধারণত বিশুদ্ধই থাকে। ফলে বৃষ্টির জলে চুলের ধুলোময়লা এবং ব্যাকটেরিয়া সহজে ধুয়ে যায়। তাতে ক্ষতি নয়, বরং উপকারই হয়। চুলের সৌন্দর্য যেমন বাড়ে, তেমনই খুশকি বা ছত্রাক সংক্রমণের সমস্যাও কমে। অনেক গবেষকের মতে, বৃষ্টির জল চরিত্রে অ্যালকালাইন। তাই বৃষ্টির জল খেলে শরীরে জমে থাকা টক্সিক উপাদান বেরিয়ে যায় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। তাছাড়া হজমশক্তিও বাড়ে। রক্তের পি এইচ লেভেলকে স্বাভাবিক মাত্রায় নিয়ে আসে। শরীরে অ্যাসিডিটির মাত্রা হ্রাস পাওয়ার ফলে অসুখে পড়ার সম্ভাবনাও কমে। তাই, সময় বা সুযোগ পেলেই বৃষ্টিকে ভিজুন। তারপর, ঘরে ফিরে ‘অ্যান্টিসেপটিক লিকুইড’ জলে মিশিয়ে স্নান করে নেওয়ার কথা নিশ্চয়ই আপনাকে আর বলতে হবে না?
