নাম তার ‘ডন’। তার উচ্চতা ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি এবং লম্বায় ১২ ফিটের বেশি। ওজন প্রায় ১,৬০০ কেজি। অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি তার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ছিল আঙুর, কমলা, মাল্টা, কলা প্রভৃতি ফলও। বিশালদেহী সেই ডনকে দেখতে গত প্রায় একমাস ধরে এলাকায় মানুষের ঢল নেমেছিল। মানুষসমান উঁচু এই ডন তখন থেকেই বিখ্যাত হয়ে যায় ‘ফরিদপুরের ডন’ নামে। গত সপ্তাহে এই প্রকাণ্ড ডন-কে রীতিমতো ঘর ভেঙে বাইরে আনা হয়। বিপুল পরিমাণ অর্থে তাকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির কাছে হাতবদল করা হয়েছে বলে খবর। কে সেই ডন?
এই ডন হচ্ছে বাংলাদেশের ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের হরেরকান্দি গ্রামের রুবায়েত হোসেনের পোষ্য ষাঁড়। বিশালকায় ষণ্ডটি ফ্রিজিয়ান প্রজাতির বলে জানা গিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ‘ফরিদপুরের ডনের’ খবর ছড়িয়ে পড়ে। কুরবানির ঈদে বেচার জন্যই তাকে প্রস্তুত করা হয়েছিল। সেদেশে কুরবানির হাটে বিক্রির জন্য নানা ধরনের গবাদিপশু পালন করা হয়। বছরভর ভালমন্দ খাইয়েদাইয়ে তাদের দর্শনীয় ও পেশিবহুল করে তোলা হয়। ঠিক কুরবানির আগে তাদের হাটবাজারে অথবা অনলাইনেও বিক্রির ব্যবস্থা হয়। কত টাকায় বিক্রি হল ডন?
তার মালিক রুবায়েত জানাচ্ছেন, বছর দুই আগে ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে ষাঁড়টি কেনেন তিনি। ঘরে রেখেই তাকে পোষা হয়। কেনার পর থেকে সেটিকে ঘরের বাইরে বের করা হয়নি। তার দাবি, সম্পূর্ণ দেশীয় খাবার খাওয়ানো হয়েছে ডনকে। তার জন্য জমিতে নেপিয়ার ঘাসের চাষ করেছেন। এছাড়া ছোলা, ভুষি, এমনকি প্রতিদিন আঙুর, কমলা লেবু, মাল্টা ও কলা খাওয়ানো হয়েছে ডনকে। সম্প্রতি বিক্রির উদ্দেশে ট্রাকে চাপিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকার সবচেয়ে বড় গোরুর হাট গাবতলিতে। ২৫ লক্ষ টাকা দর হাঁকলেও শেষমেশ ১০ লক্ষ টাকাতেই ডনকে কিনে নেন জনৈক ব্যক্তি। তিনি ক্রেতার নামপরিচয় গোপন রেখেছেন। ফলে ডনের শেষ গন্তব্য ও পরিণতি জানা যায়নি।
