সবার কাছেই বিরক্তিকর এক পতঙ্গের নাম… মশা। তারা মানুষের রক্ত চুষে খায়… ম্যালেরিয়া বা ডেঙ্গির মতো প্রাণঘাতী অসুখ ছড়ায়… হুল ফুটিয়ে ফুটিয়ে জীবন অতিষ্ঠ করে তোলে। তার ওপর রয়েছে কানের গোড়ায় মশাদের অস্বস্তিকর পোঁ পোঁ শব্দও। এই পোঁ পোঁ শব্দ তাদের কামড়ের চেয়েও যেন বেশি বিরক্তিকর। আমাদের শরীরের মুখমণ্ডল বাদে বাকি অংশ সাধারণত ঢাকা থাকে। তাই মশারা যে শরীরের খোলা অংশকেই টার্গেট করবে, এ আর নতুন কথা কী! কিন্তু কথা হচ্ছে, মশারা কানের আশেপাশে এমন পোঁ পোঁ শব্দ করে কেন? কীসের আকর্ষণে তারা কানের কাছে এসে পোঁ ধরে?
প্রথমে অল্পকথায় জেনে নেওয়া যাক, মশারা কীভাবে এই পোঁ পোঁ শব্দ করে? আপনি হয়তো জানেন, মশার এই যে পোঁ পোঁ শব্দ আমরা শুনতে পাই, তা তৈরি হয় তাদের পাখা থেকে। তারা যখন খুব দ্রুত পাখা ঝাপটায় তখনই এমন শব্দ সৃষ্টি হয়। সাধারণত প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৬০০ থেকে ৮০০ বার পাখা নাড়াতে পারে মশা। আর সাধারণত মশার ওড়ার গতি ঘণ্টায় ১.৬ কিমি থেকে ২.৪ কিমি। স্ত্রী এবং পুরুষ সব মশাই এমন শব্দ তৈরি করে। তবে স্ত্রী মশারা পুরুষ মশার চেয়ে বেশি শব্দ সৃষ্টি করতে পারে। আবার এই স্ত্রী মশারাই আমাদের রক্ত চোষে। তবে পুরুষ মশা যেহেতু ফুলের মধু আর গাছের কাণ্ড থেকে রস খেয়ে বাঁচে, তাই তারা খুব একটা গান শোনাতে আসে না। এখন জেনে যাওয়া যাক, কেন মশা কানের আশেপাশে পোঁ পোঁ গান ধরে?
শুনলে অবাক হবেন, মশার দল মানুষের কানের গন্ধে আকৃষ্ট হয়। আপনি হয়তো জানেন, কান স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নিজেকে পরিষ্কার রাখে। আপনা থেকেই ময়লা বের করে দেয়। কর্ণকুহরে এসে সেই ময়লা আটকে থাকতে পারে। তা যদি নিয়মিত পরিষ্কার না হয় তবে কানে একধরনের গন্ধ সৃষ্টি হয়। এবং এই গন্ধ মশারা দারুণ পছন্দ করে। আর এই গন্ধের টানেই এরা কানের গোড়ায় হাজির হয়। তাছাড়া, মশারা তাপ এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের প্রতিও আকৃষ্ট হয়। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত এই কার্বন ডাই-অক্সাইড তৈরি হয়। নাক ও মুখ দিয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হলেও কান যে নাক-মুখের খুবই কাছাকাছি। যাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের হার যত বেশি, তাদের কার্বন ডাই-অক্সাইডও তৈরি হবে বেশি এবং তাদের প্রতি মশাদের ‘ভালবাসা’-ও হবে সবচেয়ে বেশি।
ভালবাসার কথায় মনে পড়ল। মশাদের পোঁ পোঁ গান ধরার পেছনে অন্য একটি রোমান্টিক কারণ আছে। দ্রুত পাখা ঝাপটানো তাদের প্রজননের একটি আচরণ। পাখা থেকে তৈরি সুরের তরঙ্গকে মশারা ভালবাসার গান হিসেবে ব্যবহার করে। স্ত্রী ও পুরুষ মশা উভয়েই তাদের সুরের ফ্রিকোয়েন্সি পরিবর্তন করে সঙ্গী খোঁজে। তারপর প্রজননের আনন্দে মাতে তারা। এখন আপনি মশার বিরক্তিকর পোঁ পোঁ শব্দ থেকে বাঁচতে কী করবেন? প্রথমত, আপনি নিয়মিত কান পরিষ্কার রাখতে পারেন। শ্বাস-প্রশ্বাস তো আর বন্ধ রাখা যাবে না, তাই চারপাশের তাপমাত্রা কম রাখার চেষ্টা করতে পারেন, যেমন, ফুল স্পিডে ফ্যান চালাতে পারেন, তাপ উৎপাদনকারী বৈদ্যুতিক জিনিস কম ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়াও মশা নিরোধক প্রচলিত পদ্ধতিগুলি ব্যবহার করে নিজেকে নিরাপদে রাখার চেষ্টা করতে পারেন।
