Saturday, April 18, 2026
Homeখবরমনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তির বাতাবরণ। এবার সেই...

মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তির বাতাবরণ। এবার সেই অশান্তি রুখতে কড়া পদক্ষেপ রাজ্য নির্বাচন কমিশনের। মনোনয়ন জমা দেওয়ার কেন্দ্রের এক কিলোমিটারের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করলো কমিশন। কবে থেকে লাগু হবে এই নিয়ম? আর কী কী পদক্ষেপ নিলো কমিশন?

শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে মনোনয়ন পর্ব। আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যের দলগুলি প্রস্তুতি শুরু করেছে ইতিমধ্যেই। এদিকে মনোনয়ন পর্ব ঘিরে উত্তপ্ত রাজ্য। শুক্র ও শনিবার অশান্তির চিত্র ধরা পড়েছে। এর মধ্যেই মনোনয়ন পর্বে কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। মূলত অশান্তি রুখতেই এই কড়া সিদ্ধান্ত। মনোনয়ন কেন্দ্রগুলিতে ১৪৪ ধারা জারি করার পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন। কবে থেকে লাগু হবে এই নিয়ম? মনোনয়ন কেন্দ্র থেকে কত দূরত্ব পর্যন্ত থাকবে ১৪৪ ধারা? আর কীই বা নিয়ম লাগু করতে চলেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন? আসুন, জেনে নেওয়া যাক এক নজরে।

বৃহস্পতিবার নবনিযুক্ত নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিনহা পঞ্চায়েত নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেছেন। আর তার পরদিন অর্থাৎ শুক্রবার থেকেই মনোনয়ন জমা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে মনোনয়ন পর্বের প্রথম দিনে গুলি চলে মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামে। শুক্রবার সন্ধ্যায় কংগ্রেসকর্মী ফুলচাঁদ শেখকে লক্ষ্য করে পরপর ৬ রাউন্ড গুলি চালিয়ে দুষ্কৃতী। হাসপাতালে মৃত্য়ু হয় ওই কংগ্রেসকর্মীর। এখানেই থেমে থাকেনি। এরপর। দ্বিতীয় দিনে হিংসার ঘটনা ঘটে রাজ্যে। মুর্শিদাবাদেরই ডোমকলে বিরোধীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলকর্মীদের বিরুদ্ধে। কংগ্রেস ও সিপিএম কর্মীদের মারধরও করা হয়েছে। মনোনয়ন পর্বের প্রথম দুদিনেই ঘটে যাওয়া এই ঘটনা দুটি নিয়ে নির্বাচনে নিরাপত্তার প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টে পঞ্চায়েত নির্বাচন সংক্রান্ত মামলায় এই হিংসার ঘটনার উল্লেখ করতে শোনা গেছে খোদ প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমকেও। অন্যদিকে এই অশান্তির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। এই ইস্যুতে এবার নড়েচড়ে বসল নির্বাচন কমিশন। মনোনয়ন পর্বে অশান্তি রুখতে সোমবার থেকেই কেন্দ্রের এক কিলোমিটারের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করা করতে চলেছে কমিশন। সংবাদসূত্রে জানা গেছে, এই নতুন নিয়মের নির্দেশিকা রবিবার রাতেই রাজ্যের সমস্ত জেলা শাসকদের কাছে পাঠানো হবে।

নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তার দাবি বিরোধীরা বারবার তুলছে। এই পরিস্থিতিতে শুক্র ও শনিবারের ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, পঞ্চায়েত ভোট কি আদৌ শান্তিপূর্ণ হবে? বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনও। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে বাংলায় সমীক্ষা করতে চায় বলেও জানিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে কমিশনের ডিরেক্টর জেনারেল পদমর্যাদার এক আধিকারিককে বিশেষ মানবাধিকার পর্যবেক্ষক নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জাতীয় কমিশনের তরফে।

আমজনতার নিরাপত্তার কথা তুলে ধরে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের মামলায় প্রধান বিচারপতি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পরামর্শও দিয়েছেন রাজ্য কমিশনকে। তিনি বলেছেন, যদি প্রয়োজন মনে হয় তাহলে রাজ্য কমিশন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নিতে পারে। যদিও রাজ্য এই পরামর্শ গ্রহণ করবে কি না, তা নিয়ে রাজ্যবাসীর একাংশের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট করাতে যে কমিশন বদ্ধ পরিকর, তা জানিয়েছেন কমিশনেরই আইনজীবী। একই সুর শোনা গেছে নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন রাজীব সিনহার বক্তব্যেও।

তবে মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, বীরভূম, দক্ষিণ ২৪ পরগনা সহ রাজ্যের নানান জেলায় বিক্ষিপ্ত অশান্তির কথা মাথায় রেখে নির্বাচন কমিশনের ১৪৪ ধারা জারির সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে রাজ্যবাসীর একটা বড় অংশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Recent Comments