২০১৫ সালে বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে নীতিশ কুমারের জয়ে প্রশান্ত কিশোরের বেশ বড় ভূমিকা ছিল বলে জানা গিয়েছে। পরবর্তীতে এনডিএতে ফিরে আসেন নীতিশ কুমার। তার সেই সময় দূরত্ব বাড়ে পিকে এবং নীতিশের। এবারে নাম না করেই প্রশান্ত কিশোরকে বিঁধলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী তথা জেডিইউ সভাপতি নীতিশ কুমার। বিরোধী জোটে পিকের সম্ভাব্য ভূমিকা কেমন থাকবে, এই প্রশ্নের উত্তরে নীতীশ কুমার জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাথে কাজ করাই ওঁর ব্যবসা। বিহারে তাঁদের জন্য পিকে-র কিছু করার নেই।
প্রশান্ত কিশোরের পরিচয়ে ‘প্রচার বিশেষজ্ঞ’ কথাটির ব্যবহার করতে দেখা যায় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারকে। পিকের নামের উল্লেখ না করে তিনি বলেন, “উনি বিভিন্ন বিবৃতি দিচ্ছেন। হতে পারে তিনি বিজেপির সঙ্গে থাকতে চান। হতে পারে তিনি তাদের সাহায্য করতে চান।” উল্লেখ্য বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে আরজেডি-কংগ্রেস-বামের মহাগঠবন্ধনে যোগ দিয়েছিলেন নীতিশ। এরপরেই বিহারে সরকারের পালাবদল হয়। সে সময় বিহারে শুধু নেমপ্লেট বদলেছে, সরকারের কার্যকলাপে কোনও পরিবর্তন হয়নি বলে মন্তব্য করেন প্রশান্ত কিশোর। পিকে-র এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জবাবে ২০০৫ সাল থেকে বিহারে যা কাজ হয়েছে, তা পিকে আদৌ জানেন কি না, তা নিয়ে নীতিশ সংশয় প্রকাশ করেন।
সাম্প্রতিককালে বিহারের বর্তমান সরকারকে বিঁধেছেন প্রশান্ত কিশোর। আগামী এক-দু’ বছরে এই সরকার 10 লক্ষ চাকরি দিতে পারলে তিনি জন-সূরজ যাত্রা প্রত্যাহার করে সরকারকে সমর্থন জানাবেন বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, মানুষকে বোকা বানানোর জন্যই এই চমক দেওয়া হয়েছে। তার প্রশ্ন ১০ লক্ষ মানুষকে বেতন দেওয়ার টাকা তারা কোথা থেকে পাবেন? বর্তমান সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতনের টাকা দিতে এই সরকার অক্ষম বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
প্রশান্ত কিশোরের এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই এদিন নামের উল্লেখ না করে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিতে দেখা যায় বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারকে। এদিকে নীতিশের বক্তব্য জানার পর বিশেষজ্ঞদের ধারণা আগামী লোকসভা নির্বাচনে নীতিশ কুমার পিকের সাহায্য নেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করছেন না। অথচ ২০১৫ সালে বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে নীতিশ কুমারের নেতৃত্বাধীন মহাগঠবন্ধনের জয়ের ক্ষেত্রে প্রশান্ত কিশোরের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। জেডিইউতে যোগদান করে সহ-সভাপতি হন নীতিশ। তবে দু’বছর বাদে এনডিএ-তে যুক্ত হওয়ায় নীতিশের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে প্রশান্তের। এদিকে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করার পাশাপাশি নীতিশ কুমারের বিজেপি-ঘনিষ্ঠতা প্রসঙ্গে নীতিগত প্রশ্ন তোলার কারণে ২০২০ সালের শুরুর দিকে প্রশান্ত কিশোরকে বহিষ্কার করা হয় জেডিইউ থেকে। তবে এবার পিকে-র অবস্থান ঠিক কী হবে, তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
