Saturday, April 18, 2026
Homeখবরবিমানে যাতায়াত করতে ভয় পান? কিন্তু জানেন সড়ক এবং রেলপথের তুলনায় বিমান...

বিমানে যাতায়াত করতে ভয় পান? কিন্তু জানেন সড়ক এবং রেলপথের তুলনায় বিমান যাত্রা কতটা নিরাপদ? বিমানের কোন সিটটি সবচেয়ে নিরাপদ? কোথায় বসলে দুর্ঘটনাও আপনার কিচ্ছু করতে পারবে না? জানুন আজকের প্রতিবেদনে।

আকাশে যেখানে মেঘের আনাগোনা তারও অনেক উঁচুতে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩৩ হাজার থেকে ৪২ হাজার ফুট উঁচু আকাশপথ দিয়ে ঘন্টায় ৭৪০ থেকে ৯৩০ কিলোমিটার বেগে উড়ে চলে সাধারণ একটি বিমান। ১৯০৩ সালে রাইট ভাইদের এই অদ্ভুত আবিষ্কারের পর থেকে নানান গবেষণা আর উন্নতির হাত ধরে বিমান যেমন ৩ মাসের সমুদ্র পথকে নেহাত কয়েক ঘন্টায় আকাশপথে পাড়ি দিতে সক্ষম হয়েছে, তেমনি বিমান পথে যাতায়াত অন্যান্য সমস্ত পথে যাতায়াতের তুলনায় হয়েছে সুরক্ষিত এবং সুবিধাজনক। তার উপর আবার এই দশকে বিমান সেবায় একাধিক কোম্পানির বিনিয়োগের ফলে আজ বিমান যাত্রা মধ্যবিত্তের হাতের নাগালেও এসে গিয়েছে।

তবু এতো উঁচু দিয়ে এতো তীব্র গতিতে যাত্রা করার কথা ভেবে অনেকেরই কিন্তু আজও পিলে চমকে যায়। এর মধ্যে অনেকে আবার দুএকবার ভয়ে ভয়ে বিমান যাত্রা করার পর সেই ভয়কে জয় করে নেন আবার অনেকে একবার বিমানে চেপে ভয়ের চোটে আর কখনো না চাপার প্রতিজ্ঞা করে বসেন।

সম্প্রতি ইউরোপের যানবাহন সুরক্ষা বিষয়ক সংস্থার রিপোর্ট এ দাবি করা হয়েছে যে প্রায় ৫৬ লক্ষ বিমানের মধ্যে মাত্র একটি বিমান দুর্ঘটনা গ্রস্থ হবার সম্ভাবনা থাকে। অপরদিকে ইউরোপেই রোজ গাড়ি এক্সিডেন্ট এ অন্তত ১৩০ জন মানুষ মারা যান। আর ভারতে বছরে প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। ২০২১ সালে ভারতে প্রায় ১২ হাজার মানুষ রেল দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছে। অপরদিকে ভারতে গত ৩০ বছরে মোট ১০২০ জন মানুষ বিমান দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন। সুতরাং আকাশপথই মানুষের যাতায়াতের সবচেয়ে সুরক্ষিত পথ। তা নিয়ে আর কোনো সন্দেহ নেই।

তবে বিমানের ভেতর কোন সিটটি সর্বাধিক সুরক্ষিত তা নিয়ে অনেক সময় অভিজ্ঞ বিমান যাত্রীকেও চিন্তায় থাকতে দেখা যায়। তাই সুরক্ষা আর সুবিধা অনুযায়ী পছন্দের সিটটিকে বুক করে নিতে চায় যাত্রীরা। লক্ষ করা হয়েছে যে একটি বিমানের সামনের দিকের দরজা এবং জানালার পাশের সিটগুলি দ্রুত বুক হয়ে যায়। বিমানটি থামার পর বা কোনো দুর্ঘটনার কবলে পড়লে তাড়াতড়ি বাইরে বের হবার সুবিধার কারণে এই সিটগুলির চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে।

সম্প্রতি, টাইম ইনভেস্টিগেশন, ৩৫ বছরের বিমান দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করে একটি গবেষণার ফল প্রকাশ করেছে। যাতে দাবি করা হয়েছে যে একটি বিমানের পেছনে দিকের মাঝের সিটগুলি সবচেয়ে বেশি নিরাপদ। বিমানের দুদিকের দুটি পাখা আসলে তার জ্বালানির ট্যাঙক, আর তার নিচে ড্রাম এর মত বস্তু দুটি তার ইঞ্জিন। তাই কোনো রকম দুর্ঘটনার কবলে পড়লে সবচেয়ে বেশি বিপদ বিমানের সামনের দিকে এবং মাঝের দিকে বসে থাকা যাত্রীদের। আর পেছন দিকটা যেহেতু জ্বালানির ট্যাঙক এবং ইঞ্জিন থেকে খানিকটা দূরে তাই সেইদিকে বসে থাকা যাত্রীদের ঝুঁকি অনেকটাই কম। তাছাড়া পেছন দিকের দরজাটা কাছাকাছি হবার কারণে ইমার্জেন্সিতে দ্রুত বেরিয়ে যাবার সুবিধাও পান পেছন দিকের যাত্রীরা।

যদি আপনার টাইম এর এই গবেষণায় বিশ্বাস থাকে তবে এরপর বিমান যাত্রা করার আগে বিমানের পেছনের দিকে সিট্ বুক করার কথা ভেবে দেখতে পারেন। এমনকি ওই সিটগুলি সামনের সিট্ এর তুলনায় খানিকটা সস্তায়ও পেয়ে যেতে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Recent Comments