বিতর্ক আর বিনোদন একে অন্যের পিছু ছাড়ছে না বর্তমান দিনে। খবরের শিরোনামে চোখ রাখলে প্রায়শই চোখে পড়ে কোনো না কোনো কারণে বিনোদনের দুনিয়া থেকে শুরু করে সেলিব্রিটিমহল বিতর্কে জড়াচ্ছেন একের পর এক। এবারে এই তালিকায় নাম লেখালো সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া বিগ বাজেটের ছবি আদিপুরুষ। তবে একথা বলাই বাহুল্য মুক্তির আগেও বহু বিতর্কে জড়িয়েছিল সিনেমাটি। তথাপি, একাধিক বিতর্ককে তুড়ি মেরে উড়িয়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি।
ব্যাস। তারপর শুরু আবার নতুন বিতর্ক। বিশেষ করে আদিপুরুষ’ ছবির ডায়ালগ নিয়ে ইতিমধ্যেই সারা দেশজুড়ে বিতর্ক তুঙ্গে। কথোপকথন এবং বিতর্কিত সংলাপের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় চরম ট্রোল হচ্ছে এই সিনেমা। ছবি মুক্তির প্রথম দিন থেকেই সর্বত্র হাসির খোরাক হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সিনেমার কিছু ডায়ালগ।
ছবি মুক্তির প্রথমদিন থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ার আনাচে কানাচে দেখা যাচ্ছে এই সিনেমার বিভিন্ন ক্লিপিংস, ও বিভিন্ন ছবি।
কোথাও সাপে আবৃত হয়ে রাবণের শুয়ে থাকার দৃশ্য কোথাও আবার কৃতি শ্যানন ও প্রভাসের এর রোম্যান্সের দৃশ্য। আর এই সমস্ত কিছু নিয়েই কটাক্ষের বন্যা বয়ে যাচ্ছে নেটিজেনদের মধ্যে। রাবণের সাপে আবৃত দৃশ্যকে অনেকেই আবার ইলেকট্রিকের সাপ বলেও ব্যঙ্গ করছেন। আবার সীতা বা রামচন্দ্রর রোমান্স টাও হয়তো দর্শক দের ভাবাবেগে আঘাত করছে। এমনকি সিনেমার অন্যান্য চরিত্রগুলো নিয়েও নানান মন্তব্য ভেসে আসছে। পৌরাণিক কোন চরিত্রকেই এইভাবে দেখতে হয়ত দর্শকরা পছন্দ করছেন না।
যারফলে একাধিক দৃশ্য নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা ও ট্রোলিং। ছবির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই দিল্লি হাইকোর্টে আবেদনও করেছে হিন্দু সেনার দল। ছবির প্রদর্শন বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে তাঁদের তরফে।
তবে সবচেয়ে বেশি যে অংশটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে ও ট্রোলিং হয়েছে, সেটি হনুমানের সংলাপ। হনুমানের লেজে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার দৃশ্য ও তার সংলাপগুলি। বিশেষত যেখানে বলা হয়েছে – ‘ আগ তেরে বাপ কা, কাপড়া তেরা বাপ কা, তেল তেরে বাপ কা, জ্বলেগি ভি তেরে বাপ কি..’। আর এই ধরনের সংলাপ শুনে রীতিমতো চটেছেন অনুরাগীরা। তাদের অভিযোগ, এই ধরণের সংলাপ ব্যবহার করে রামায়ণ বিশ্বাসী হিন্দু ভাবাবেগে আঘাত করা হয়েছে।
আদিপুরুষ ছবির এই সংলাপ লিখেছেন লেখক মনোজ মুনতাশির শুক্লা। এমন সংলাপের জন্য তিনিও অনবরত ট্রোল হচ্ছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। যদিও অবশেষে মুখ খুলেছেন তিনি।
তার স্পষ্ট বক্তব্য – এই ধরনের ভাষা ভুলবশত ব্যবহার করা হয়নি, বরং জেনে বুঝেই তা ব্যবহার করা হয়েছে। যাতে দর্শকরা নিজেদের সঙ্গে যোগসূত্র তৈরি করতে পারে। তিনি এও জানিয়েছেন যে ভারতে এরকম অনেক জায়গা রয়েছে যেখানে রামায়ণ পড়ে শোনানো হয় এই ধরণের চলতি ভাষাতেই।
মনোজ মুনতাশির নিজের টুইটারে এক দীর্ঘ পোস্ট করে আরও বলেন – দর্শকদের আবেগের চেয়ে তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নয়। তিনি এও জানিয়েছেন, ছবির যে সংলাপগুলি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে তা বদলে দেওয়া হবে এই সপ্তাহেই।
শুধু এটুকুই নয় তিনি দীর্ঘ পোস্টে আরও জানিয়েছেনা – আদিপুরুষ ছবিতে প্রভু রামের যশগান করেছেন তিনি কিন্তু তার জন্য তাঁর প্রশংসা করা হয়নি। অথচ ৫ লাইনের সংলাপের জন্য তাঁর সমালোচনা করা হচ্ছে। রামকথার প্রথম পাঠ থেকে কেউ যদি কিছু শিখতে চায়, তা হল প্রত্যেকের চিন্তা ভাবনার সম্মান করা। ভুল ও ঠিক, সময়ের সঙ্গে বদলে যায়। আদিপুরুষ-এর ৪০০০-র বেশি পংক্তির সংলাপ তিনি লিখেছেন। ৫ পংক্তির সংলাপে কিছু আবেগকে আহত করা হয়েছে। কিন্তু একাধিক পংক্তিতে শ্রী রামের যশগান করেছেন তিনি , মা সীতার সতীত্বের বর্ণনা করছেন অথচ তার জন্য কোনও বাহবা মিলল না।
