পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে শাসক বিরোধী তর্জা যেন বেড়েই চলেছে। এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ কোনও দল। বঙ্গ রাজনীতির এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আগ্রাসী মেজাজে দেখা গেল তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেত্রী নুসরত জাহানকে। বিরোধী দলের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ টেনেই ক্ষান্ত থাকলেন না, উল্টে বাঁশ পেটার দাওয়াই দিলেন তিনি। তবে নুসরতের বক্তব্য ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াতেই মুখ খুললেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহানের এদিনের নিশানায় ছিল গেরুয়া শিবির। তারা ২০২১-এর ভোটে হেরে গিয়ে রাজ্যের বিরুদ্ধে বড় ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। চক্রান্ত করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দমাতে চাইছে কেন্দ্র সরকার, এমন অভিযোগও করেছেন অভিনেত্রী। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার বহুদিন ধরে যে অভিযোগ করে আসছে, সেই সুরই শোনা গেল তার মুখে। ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্র। রাজ্যের সরকার যাতে মানুষের জন্য কাজ না করতে পারেন, সেই কারণেই কেন্দ্র এই কাজ করছে বলে মত নুসরতের।
বসিরহাটের সাংসদ গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেই রাজ্যবাসীর উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দেন, যাতে নুসরতের আগ্রাসী মনোভাবের পরিচয় পাওয়া গেছে। নির্বাচনকে লক্ষ্য রেখে অভিনেত্রীর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ দলকে অক্সিজেন দিলেও হিংসার বাতাবরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশ। বিজেপি যদি ভোট চাইতে আসে, তাহলে তাদের বাঁশপেটা করার কথা বললেন নুসরত জাহান।
এদিন বসিরহাটের তৃণমূল সাংসদের মুখে শোনা যায় ২০২১ সালে গেরুয়া শিবিরের দেওয়া স্লোগান। ‘ইস বার, ২০০ পার’ বলেছিল তারা। তবে নুসরতের কথায়, ওই ২০০-র নৌকা অনেকক্ষণ ধরে টেনেছে। কিন্তু পার করতে পারেনি। মাঝনদীতেই ডুবে গিয়েছে বিজেপি। পাশাপাশি ভূয়সী প্রশংসা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মমতা-জোয়ার এলে যে শুধু ২০০ নয়, সমস্ত নৌকোই ডুববে, তেমনটাই মনে করেন তিনি। এছাড়াও বাংলার মানুষের টাকা যখন দেয় না, তখন বাংলার মানুষ বিজেপি-কে ভোট দেবে না বলেও মত তার।
তবে নুসরতের এই বক্তব্যের পর এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বসিরহাটের সাংসদের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে মানুষে ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। পঞ্চায়েত ভোটের আগে নিজের অস্তিত্ব জানান দিতেই নুসরত এমন মন্তব্য করছেন বলে জানিয়েছেন দিলীপ।
তবে অভিনেত্রী তথা নুসরতকে নিয়ে জল্পনার শেষ নেই। কখনও তার ব্যক্তিগত জীবন, কখনও আবার রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে মাঝেমধ্যে। বসিরহাটের সাংসদকে নাকি তার এলাকাতেই পাওয়া যায় না! শুধু তাই নয়, কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আঙুল তুলে এর আগেও আলোচনায় উঠে এসেছে নুসরত। রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সংস্থাগুলির বিলগ্নীকরণ নিয়ে বছর দুয়েক আগে লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়েও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন তিনি। তবে এবার যেন সেসব মাত্রা ছাড়াল! বাঁশপেটার দাওয়াই? হিংসার রাজনীতি, বলছেন বিরোধীদের একাংশ।
