নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে একের পর এক শিরোনামে উঠে আসছে পশ্চিমবঙ্গ। আলোচনা চলছে কলকাতা হাইকোর্টের রায় নিয়ে। শুনানি, স্টে অর্ডার, রায়– এর মাঝেই যেন আটকে রয়েছে রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীরা। এবার ২০১৪ সালের টেটের ভিত্তিতে ২০১৬ এবং ২০২০ সালের দু’টি নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে জল্পনা। এই মামলায় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় আগেই নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর বিচারপতি সুব্রত তালুকদার এবং সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চও সেই নির্দেশ বহাল রাখে। কিন্তু এবার সেই নির্দেশে স্টে অর্ডার দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট।
২০১৪ সালের টেটকে কেন্দ্র করে রাজ্যে যে নিয়োগ হয়েছিল তা নিয়েই মূলত জল্পনা। এই টেটকে কেন্দ্র করে দুবার নিয়োগ হয়েছিল রাজ্যে। প্রথমবার ২০১৬ সালে এবং দ্বিতীয়বার ২০২০ সালে। শেষবারের নিয়োগে ১৬,৫০০ পদের কথা জানিয়েছিল পর্ষদ। সেই অনুযায়ী চলছিল নিয়োগ প্রক্রিয়া। হয়েছিল নিয়োগও। কিন্তু এরই মধ্যে এই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সংবাদসূত্রে দাবি করা হয়েছে, যত পদে নিয়োগের কথা বলেছিল রাজ্য সরকার, তত শূন্যপদ পূরণ হয়নি। অর্থাৎ পরবর্তী সময়ে সব পদ পূরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। সেরকমই একটি তথ্য সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। তাও নিয়োগ সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে। কলকাতা হাইকোর্টে সেই মামলার শুনানিতে জানা গেছে, প্রায় চার হাজার পদে নাকি নিয়োগই হয়নি। তথ্য বলছে, ১৬,৫০০ পদের মধ্যে নিয়োগ হয়েছে মাত্র সাড়ে ১২ হাজার পদে। এরপরই বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় জানান, এই ৩,৯২৯ শূন্যপদের দাবিদার কেবল ২০১৪ সালের টেট উত্তীর্ণরা। সুতরাং তাদেরই নিয়োগ করার কথা বলেন তিনি। এরপর টেটে ভুল প্রশ্ন নিয়েও জলঘোল হয়। তার ভিত্তিতে মামলাকারীদের চাকরি দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত। গত বছরের নভেম্বর মাসের ৮ তারিখে শূন্যপদের অধিকার নিয়ে নির্দেশ দিয়েছিলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এর তিনদিন পর কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সুব্রত তালুকদার এবং সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চে গেলে একই রায় জানায় তারা।
তবে এখানেই থেমে থাকেনি সেই নিয়োগ সংক্রান্ত মামলাটি। কলকাতা হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানা প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এবং ২০১৭ সালের টেট উর্ত্তীর্ণদের একটা অংশ। নিয়োগের ক্ষেত্রে কেন শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট চাকরিপ্রার্থীরাই অংশ নিতে পারবেন? এই প্রশ্ন তোলা হয় টেট উত্তীর্ণদের তরফে। তাদের কথায়, নিয়োগ হলে সেখানে সমস্ত পাশ করা চাকরিপ্রার্থীরাই অংশ নিতে পারে। তাহলে এক্ষেত্রে নয় কেন? এবার ৩,৯২৯ পদে নিয়োগ সংক্রান্ত নির্দেশেরর ওপরই স্টে অর্ডার দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। শুক্রবার বিচারপতি অনিরুদ্ধ বসু এবং বিচারপতি সুধাংশু ধুলিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে সেই কথা। আগামী ৫ জুলাই ওই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ততদিন পর্যন্ত থাকবে স্থগিতাদেশ।
