কেষ্টর গড় কি এবার তবে বিজেপি-র দখলে? আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে বীরভূমই কি প্রধান ফ্যাক্টর? অনুব্রত-হীন বীরভূমে কি শাসকদলের হার নিশ্চিত? পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে নানা জল্পনার মাঝেই একটা বিষয় কিছুটা হলেও স্বস্তি দিচ্ছে তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের। আর তা হল আসন্ন ভোটের আগেই বীড়ভূমের বাঘের ঘরে ফেরা। সত্যিই কি ফিরছেন অনুব্রত? গরুপাচার মামলায় বন্দি অনুব্রত মণ্ডল এখন রয়েছেন তিহাড়ে। আর এরই মধ্যে বিরোধী শিবির অনুব্রত গড়ে নয়া স্ট্র্যাটেজি নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। রবিবার রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর জনসভা ছিল বীরভূমের মুরারইয়ে। আর সেখানে তিনি সাফ জানান যে, গেরুয়া শিবিরের সংগঠন নিয়ে অন্য কারও ভাবার দরকার নেই। সেটা তারাই ভাববে। তাহলে কি গোপনে ঘুঁটি সাজাচ্ছে বাংলার গেরুয়া শিবির? তাও আবার অনুব্রতর বীরভূমে? এমনিতেই এবারের নির্বাচনে জেতা নিয়ে একপ্রকার আশাবাদী শুভেন্দু। এদিন তাঁর কথায় সেই সুরই ধরা পড়েছে। শুধু তা-ই নয়, এই পঞ্চায়েত নির্বাচনে জোড়াফুলের অবস্থা সঙ্গীন হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এদিন শুভেন্দু অধিকারী বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলে বীরভূমে পঞ্চায়েতে তৃণমূলের যা অবস্থা হবে, তা রাজ্যবাসী দেখতে পাবেন। তাছাড়া বীরভূমের মানুষ যা বোঝার বুঝে গিয়েছেন বলেও জানান তিনি। তাই সব মিলিয়ে আসন্ন নির্বাচনের জন্য বীরভূম প্রস্তুত। তাঁরা দুটি লোকসভা নরেন্দ্র মোদীকেই দেবেন বলে বিশ্বাস বিরোধী দলনেতার। এদিন অনুব্রতর প্রত্যাবর্তনের প্রশ্নেও মুখ খোলেন বিরোধী দলনেতা শুভন্দু অধিকারী। তাঁকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাফ জানান, পঞ্চায়েত ভোটের আগে অনুব্রতর বীরভূমে ফেরা অসম্ভব। সেই সময়ও তিনি অনুব্রত মণ্ডল দিল্লির জেলেই থাকবেন বলে মত তাঁর। তবে শুভেন্দুর এই বক্তব্যের প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন শাসকদল তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। ইডি, সিবিআই অনুব্রতকে গ্রেফতার করেছিল বলে শুভেন্দু এসব বলতে পারছেন, এমনটাই মন্তব্য করেন কুণাল। কারণ হিসেবে ইডি-র চার্জশিটের কথা বলেন তিনি। তাতে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও তোলেন তৃণমূল মুখপাত্র। এছাড়া শুভেন্দুর বলা গেরুয়া শিবিরের বীরভূম জয় প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ বলেন, লোকসভা, বিধানসভা নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকে। পঞ্চায়েত ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকে না। শুভেন্দুরা কি সংবিধান বদলাতে চাইছে? এমনিতেই রবিবার শুভেন্দুর সভাস্থল থেকে মাত্রা ৩০ কিমি দূরেই তৃণমূল শিবিরের কোর কমিটির বৈঠক হয়েছে বলে জানা গেছে। সব মিলিয়ে বীরভূমের মাটি নিয়ে শাসক বিরোধীর লড়াইয়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট। একদিক বিরোধীরা চাইছে দাঁত বসাতে। অন্যদিকে শাসকদলও এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ। এবার শেষ হাসি কে হাসে, সেটাই এখন দেখার। তবে, বীরভূম যে এবারের নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে, বলা বাহুল্য।
