২০১৬ সালের সেই রাত আজ ও মানুষের মনে তাজা। হঠাৎ করেই এক রাতের মধ্যে বাতিল পাঁচশো ও এক হাজার টাকার নোট। মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল ওই এক রাতেই। হয়রানির শিকার হতে হয়েছিল জনগণকে।
সেই সময় নোটের ঘাটতি পূরণ করার জন্য বাজারে আনা হয়েছিল ২ হাজার টাকার নোট। বর্তমানে অন্য নোটগুলোর জোগান যথেষ্ট পরিমাণে রয়েছে। তাই ২০১৮-১৯ সালে ২ হাজার টাকার নোট ছাপানো বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আর এবার ২ হাজার টাকার নোট ব্যবহার বন্ধ করল আরবিআই। তাঁরা এও জানিয়েছেন, ২ হাজার টাকার নোট থাকলে তা ২৩ মে থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ব্যাঙ্কে জমা করতে হবে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এমন সিদ্ধান্ত ঘোষণার পরেই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি অভিযোগের আঙুল তুলতে শুরু করেছেন।
শুক্রবার এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমে একটি টুইট করেছিলেন। টুইটারে তিনি লিখেছিলেন, “এটা ২ হাজার টাকার ধামাকা নয়। তবে এটা কোটি কোটি ভারতবাসীকে কোটি কোটি টাকার ধোঁকা দেওয়া হল। নোটবন্দির সময় যে কষ্ট ভোগ করেছি আমরা তা ভোলার নয়। যারা এই কষ্ট দিয়েছিল, তাদের ক্ষমা করা যায় না।”
শুক্রবারের পর শনিবারও তিনি এই বিষয় নিয়ে সরব। তাঁর নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি লিখেছেন, “২ হাজার টাকার নোট বাতিল একটি খামখেয়ালি এবং তুঘলকি নাটক। যা সাধারণ মানুষকে আবারও ব্যাপক হয়রানির মধ্যে ফেলবে। আসলে মৌলিক ভাবে জনবিরোধী এবং আগ্রাসী পুঁজিবাদকে সাহায্য করা সরকারকে আড়াল করতেই এই সব অসাধু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। স্বৈরাচারী সরকারের এই ধরনের পদক্ষেপ জনগণ কখনও ভুলবে না।”
তবে অন্যদিকে বিজেপির দাবি, গত বার নোটবন্দির সময় দেশের মানুষকে মাত্র সাত সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছিল। আর এ বার ২ হাজার টাকার নোট ব্যাঙ্কে জমা দেওয়ার জন্য দেওয়া হয়েছে চার মাস সময়। তাই মুখ্যমন্ত্রী যা বলছেন তাতে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে মন্তব্য তাঁদের।
