জাতীয় দলের মর্যাদা হারালো তৃণমূল নির্বাচন কমিশনের এমন সিদ্ধান্তে হতবাক শাসক দল। কিন্তু কেন জাতীয় দলের মর্যাদা হারাল তৃণমূল? আর কোন কোন দল হরালো এই মর্যাদা? কোন দলই বা নতুন করে জাতীয় দলের মর্যাদা পেল?
জানুন বিস্তারিত
সোমবার নির্বাচন কমিশনের তরফে জাতীয় দলের তালিকা প্রকাশ হতেই, তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে মমতা ব্রিগেড ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে একটি বামদল। সরকার বিরোধীরা নানাভাবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলছে ইতিমধ্যেই। কিন্তু কেন জাতীয় দলের মর্যাদা হারাল তৃণমূল?
রাজ্য জুড়ে এই মুহূর্তে একটাই আলোচনা। আর সেটি হল জাতীয় দলের মর্যাদা থেকে বঞ্চিত বাংলার শাসকদল তৃণমূল। একদিন আগেই প্রকাশিত নির্বাচন কমিশনের তালিকায় তৃণমূল ছাড়াও রয়েছে বাম দল সিপিআই অর্থাৎ কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া এবং মহারাষ্ট্রের নেতা শরদ পওয়ারের এনসিপি অর্থাৎ ন্যাশানালিস্ট কংগ্রেস পার্টি। তবে এই তালিকায় রয়েছে অরবিন্দ কেজরীওয়ালের আপ অর্থাৎ আম আদমি পার্টি। তারা পেয়েছে জাতীয় দলের মর্যাদা। এই বিষয়ে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কিছু বলতে চাননি। আগে দলের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
কিন্তু কেন জাতীয় দলের মর্যাদা হারাল ঘাসফুল শিবির? নির্বাচন কমিশনের কী নিয়ম রয়েছে এক্ষেত্রে?
আগে জেনে নেওয়া যাক, জাতীয় দলের মর্যাদা পেতে গেলে কী কী শর্ত পালন করতে হবে। নির্বাচনী আইন বলছে, জাতীয় দল হতে গেলে তিনটি শর্ত রয়েছে। তার মধ্যে অন্তত একটি পূরণ করতে হবে। কোন কোন শর্তের কথা বলেছে নির্বাচন কমিশন?
যে তিনটি শর্তের কথা বলা হয়েছে, তা হল– এক, লোকসভায় কমপক্ষে চারটি রাজ্য থেকে ৬ শতাংশ ভোট পেতে হবে। দুই, ৩টি রাজ্য থেকে লোকসভায় অন্তত ১১টি আসন অর্থাৎ মোট আসনের ২ শতাংশ জিততে হবে। এছাড়া আগের জেতা আসনের অন্তত চারটিতে পুনরায় জিততে হবে। এবং তিন, অন্তত চারটি রাজ্যে ‘রাজ্য দলের’ মর্যাদা পেতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের এই শর্ত অনুযায়ী, কী অবস্থা তৃণমূলের?
আগে জেনে নেওয়া যাক, কোন শর্তে তৃণমূল জাতীয় দলের মর্যাদা পেয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা, অরুণাচল ও মনিপুর প্রদেশে রাজ্য পর্যায়ের দল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল তৃণমূল। লোকসভা নির্বাচনে চারটি রাজ্য থেকে ৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিল তারা। সেই নিরিখেই ২০১৬ সালে জাতীয় দলের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল নির্বাচন কমিশনের তরফে। কিন্তু ৭ বছরের মাথাতেই সেই মর্যাদা হারাল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। পূরণ করতে পারল না শর্ত।
অন্যদিকে দিল্লি এবং পঞ্জাবে ক্ষমতায় থাকা আম আদমি পার্টি গত ফেব্রুয়ারিতে গোয়ার বিধানসভা ভোটেও ৬ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিল। এর পর গুজরাট বিধানসভা ভোটেও সেই শর্ত পূরণ করে তারা।
