নিয়োগ দুর্নীতি কান্ড নিয়ে তৃণমূলকে খোঁচা বিরোধী দলনেতার।
লোডশেডিংয়ে জেতা বিরোধী দলনেতার মানসিক সুস্থতা কামনা করে পাল্টা তোপ তৃণমূলের মুখপাত্র শান্তনু সেনের। কিন্তু হঠাৎ কেন এই কাঁদা ছোড়াছুরি ? আর কি বললেন তিনি?
নিয়োগ দুর্নীতি কান্ডে প্রায় তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি। সিবিআই ও ইডির জালে যত ধরা পড়ছে একের পর এক রাঘব বোয়ালরা ততোই তদন্তে গতি বাড়াচ্ছে তাঁরা। সম্প্রতি মুর্শিদাবাদের বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার বাড়িতে তল্লাশি চালায় সিবিআইয়ের আধিকারিকরা।
মূলত নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগেই হানা দিয়েছিল সিবিআই। সিবিআই সূত্রের খবর অনুযায়ী, জীবনকৃষ্ণকে জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীনই তিনি অসুস্থতার কথা বলে বাড়ির বাইরে চলে যান। এরপরে শৌচাগারে যাওয়ার নাম করে পাঁচিল টপকে নিজের দু’টি মোবাইল ফোন ফেলে দেন পাশের পুকুরে। সেই পুকুরের জল তুলে ফেলে মোবাইলের সন্ধান এখনও চালাচ্ছে সিবিআই।
এরপরেই বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয় নিয়ে মুখ খুলে তৃণমূলকে আক্রমণ করলেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তৃণমূলের অন্তত ১০০ জন বিধায়ক নিয়োগকাণ্ডে সরাসরি এজেন্টের কাজ করেছেন।
সেই সঙ্গে তিনি বলেন, “আমি ওদের (তৃণমূল) সঙ্গে ২১ বছর ছিলাম। এই পার্টির সম্পর্কে অন্য অনেকের থেকে বেশি ধারণা আমার রয়েছে। আমি বলেছিলাম, ১০০ জন বিধায়ক এজেন্টের কাজ করেছেন। অসংখ্য এমএলএ এজেন্টের কাজ করেছে। নিজের পরিবারের লোককে চাকরি দিয়েছে এবং চাকরি বেচেছে। মেধা চুরি হয়েছে। যে দিকে যাচ্ছে, আমার তো মনে হয় বিধানসভাতে আগামী ৬ থেকে ৮ মাসের মধ্যে তোলামুলের এমএলএ সংখ্যা ১০০-তে নেমে যাবে।”
পার্থ চট্টোপাধ্যায়, মানিক ভট্টাচার্যদের মতো শাসক বিধায়কদের জেলে থাকা নিয়েও রাজ্যকে তিনি আক্রমণ করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি অখিল গিরির প্রায়ই হাইকোর্টের দরজার কাছে ঘোরাঘুরি করার কথাও উল্লেখ করেছেন।
যদিও রাজ্যের মন্ত্রী অখিল গিরি বলছেন, “সর্বৈব মিথ্যা কথা বলছেন শুভেন্দু অধিকারী। আমি হাইকোর্টের দরজা দেখিনি। হাইকোর্টের ধারে কাছে যাই না, যাওয়ার প্রয়োজনও নেই। আমি লেটারহেডে যদি কিছু দিয়ে থাকি, তাহলে তাতে কতজন চাকরি পেয়েছে তা দেখতে হবে। সেটা নিয়ে তদন্ত হোক। ২০১২ সালে শুভেন্দুই দায়িত্বে ছিল। সেই সময় কতজন চাকরি পেয়েছে, সেটাও তদন্ত হোক।”
বিরোধী দলনেতার এসব কথার পাল্টা উত্তর দিতে ছাড়েনি তৃণমূল। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা মুখপাত্র শান্তনু সেন বলেন, “শুভ নববর্ষের শুভলগ্নে লোডশেডিংয়ে জেতা বিরোধী দলনেতার মানসিক সুস্থতা কামনা করি। যাকে ক্যামেরায় প্রকাশ্যে কাগজে মুড়ে টাকা নিতে দেখা গিয়েছে। যাঁর নাম সিবিআইয়ের এফআইআরে পর্যন্ত রয়েছে। শুভেন্দুবাবু, নিজের দলের বিধায়ক কত জন, সেটাও বলতে পারবেন না। তাঁর মুখ থেকে এ সব কথা মানে পাগলের প্রলাপ! নতুন বছরে আমি তাঁর মানসিক সুস্থতা কামনা করি।”
