শুক্রবার তলব করেছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সাড়ে ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল অভিনেত্রী তথা যুব তৃণমূলের সভানেত্রী সায়নী ঘোষকে। ফের বুধবার তলব করা হয়েছে তাকে। ইডির প্যাঁচ শেষ হতে না হতেই এবার আর এক কেন্দ্রীয় এজেন্সি সিবিআইয়ের স্ক্যানারে চলে এল সায়নীর নাম৷ কী অভিযোগ যুব তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে?
শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি কাণ্ডে একা এনফোর্সমেন্ট নয়, কলকাতা হাইকোর্টের তৎপরতায় ইডির দোসর হিসেবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-ও তদন্ত শুরু করেছে বলে সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। এমনিতেই নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে গত কয়েকমাস ধরে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। শ্রীঘরে রয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সহ শিক্ষা দফতরের একাধিক পদস্থ কর্তার৷ শাসকদলের নেতা মন্ত্রীদের নাম জড়ানোয় বিরোধীরা একপ্রকার এই দুর্নীতিকাণ্ডকে অস্ত্র করেই তোপ দাগছে।
নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে তৃণমূলের বহিষ্কৃত নেতা কুন্তল ঘোষ গ্রেফতার হয়েছেন অনেক আগেই। তার চিঠি নিয়েও কম জলঘোলা হয়েছে রাজ্যে। এবার কুন্তলের সম্পত্তিতে যোগ থাকার অভিযোগে তদন্তকারী এজেন্সি ইডির নজরে এসেছে সায়নী ঘোষের নাম। গত শুক্রবার সেই মর্মে অভিনেত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। ইডির নির্দেশমতো বেশ কিছু নথি নিয়ে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হয়েছিলেন সায়নী। তবে আরও খুঁটিনাটি তথ্য জানত্র চান আধিকারিকরা। তাই ফের তাকে তলব করা হয়েছে। সায়নীর বিরদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে, তা কুন্তলকে কেন্দ্র করে। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে জানা গেছে ধৃত কুন্তলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে নিয়োগ দুর্নীতির ৬.৫ কোটি টাকা সরানো হয়েছিল। এই টাকার একটা অংশ গিয়েছিল যুব তৃণমূল নেত্রীর কাছেও।
তবে একা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট নয়, সায়নীর বিষয়ে পুঙ্খানপুঙ্খ তথ্য সংগ্রহে নেমেছেন সিবিআইয়ের কর্তারা, এমনটাই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে৷ ইতিমধ্যে সিবিআই নাকি ইডির কাছ থেকে কিছু তথ্যও চেয়ে পাঠিয়েছেন৷ তাহলে কি এবার সায়নী ঘোষকে তলব করবে সিবিআই-ও? এর উত্তর সময় দেবে৷
শুক্রবার সিজিও কমপ্লেক্সে ইড্র তরফে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় যুব তৃণমূল সভানেত্রীকে৷ এদিন নাকি তাকে একটি ফর্ম ফিল-আপ করতে দিয়েছিলেন তদন্তকারীরা। গত দশ বছরে তাঁর সমস্ত আয়, ব্যয়, ঋণ, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব জানাতে বলা হয়েছে। এদিকে কুন্তলের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের যে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে উঠছিল, তাও একপ্রকার নাকচ করে দিয়েছেন অভিনেত্রী। কুন্তলকে চেনেন বটে, তবে তার সঙ্গে কোনও যোগ নেই বলেই জানিয়েছেন সায়নী। এদিকে সংবাদমাধ্যম মারফত জানা যাচ্ছে, জেলবন্দি কুণালের মুখোমুখি বসিয়েও তদন্ত করতে পারেন আধিকারিকরা। একদিকে ইডির চাপ, অন্যদিকে সিবিআই। সাঁড়াশি কোপে শেষপর্যন্ত সায়নী ইস্যু কোনদিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।
