Friday, April 17, 2026
Homeখবরএবার নরেন্দ্র মোদির নিশানায় রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতি। নাম না করে পশ্চিমবঙ্গকে আক্রমণ...

এবার নরেন্দ্র মোদির নিশানায় রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতি। নাম না করে পশ্চিমবঙ্গকে আক্রমণ মোদীর। কি বললেন প্রধানমন্ত্রী? এবার কি তবে আরও কড়া পদক্ষেপের পথে কেন্দ্র?

রাজ্যে নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এজেন্সির তৎপরতা বেশি করে ধরা পড়ছে গত কয়েক মাস ধরে। নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে একের পর এক তথ্য সামনে এসেছে। চাকরির জন্য রেস্তোরাঁর মতো রেট চার্টের খবরও এসেছে প্রকাশ্যে। এবার রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনের কমবেশি এক মাস আগে দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখে শোনা গেল নিয়োগ দুর্নীতির রেট চার্টের কথা। তাহলে কি এই রাজ্যকেই নিশানা করলেন নরেন্দ্র মোদি? যদিও এদিন তিনি কোনও রাজ্যের নাম না করেই নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়েছেন। আর সেই নিশানা যে বাংলার শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধেই, তেমনটাই মনে করা হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় সরকারের ‘রোজগার মেলা’র বিশেষ কর্মসূচি ছিল মঙ্গলবার। সেই কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন মোদি বলেন, একটি রাজ্যে টাকার বদলে সরকারি চাকরি হচ্ছে। এরপরই রেট কার্ডের উল্লেখ করেন তিনি। সরকারি চাকরির প্রতি পদের রেট কার্ড আছে সেই রাজ্যে। এমনটাও বলতে শোনা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। তার কথায়, রেস্তরাঁয় যেমন কোনও খাবারের মূল্য নির্ধারণ করা থাকে, তেমনই সেই রাজ্যে চাকরির ক্ষেত্রে রয়েছে রেট কার্ড। নির্ধারিত সেই দর অনুযায়ী টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয় চাকরি, এই কথাও বলতে শোনা যায় নরেন্দ্র মোদিকে।

মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে একটি রাজ্য। তিনি তৃণমূল কংগ্রেস বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনকী, রাজ্যেরও নাম করেননি এদিন। কিন্তু সেই রাজ্যে চাপরাশি, ড্রাইভার, শিক্ষক, নার্স— সব পদে চাকরির জন্য বাঁধা দর রয়েছে বলে জানান তিনি। এই নিশানা যে প্রকারান্তরে বাংলার দিকেই, তা মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশ। কারণ প্রধানমন্ত্রী এদিনের রোজগার মেলার কর্মসূচিতে যে কথা বলেছেন, তা সাম্প্রতিককালে এই রাজ্যেই দেখা গেছে। মাসখানেক আগেই সংবাদের শিরোনামে এসেছিল নিয়োগের ক্ষেত্রে রেট চার্টের কথা। পুরসভায় চাকরি বিক্রি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছিল। আর সেখান থেকেই জানা যায়, পুরসভার কোন পদে চাকরির জন্য কত টাকা ধার্য ছিল, তার তালিকা। পুরুভায় শ্রমিক, গাড়ির চালক, সাফাইকর্মী ও গ্রুপ ডি-র চাকরির দাম ধার্য ছিল ন্যূনতম ৪ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে পুরসভার গ্রুপ সি ও টাইপিস্টের চাকরির দাম ছিল ৭ লক্ষ টাকা থেকে শুরু। এই প্রসঙ্গই যে নরেন্দ্র মোদি তার বক্তৃতায় বলতে চেয়েছেন, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। এর আগে বিজেপি-র অন্যান্য নেতারা নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে অভিযোগ তুললেও প্রধানমন্ত্রীর মুখে সেভাবে শোনা যায়নি বিষয়টি। তবে মঙ্গলবার তিনি নিয়োগ দুর্নীতির প্রসঙ্গ টেনেই দর্শকদের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দেন– তারা এরপম চাকরির রেট কার্ড চান? নাকি সেফ গার্ড?

এছাড়াও পরিবারতন্ত্রের রাজনীতির অভিযোগ তুলে চাকরির নামে যুবসমাজকে ধ্বংস করছে ওই রাজ্যের শাসকদল, এই কথাও বলতে শোনা গেছে প্রধানমন্ত্রীকে। যদিও তার মন্তব্য শুনে মুখ খুলেছেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়। ওইদিনই তিনি মোদি-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি আদানির প্রসঙ্গে টেনে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটা প্রশ্নের উত্তর চেয়েছেন, মোদি-ঘনিষ্ঠ আদানিরা ক’টা চাকরি দিয়েছেন?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Recent Comments