Friday, April 17, 2026
Homeখবরএকসময় মুদি দোকানে কাজ করতেন এখন আফ্রিকার অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ৩৫০০ মানুষের...

একসময় মুদি দোকানে কাজ করতেন এখন আফ্রিকার অন্যতম প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ৩৫০০ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন নিজে

রিজওয়ান আদাতিয়ার নাম হয়তো আপনার জানা নেই। কিন্তু এই ভারতীয়ের নাম আফ্রিকার অনেক দেশের মানুষের কাছে অত্যন্ত পরিচিত। হবে নাই বা কেন, কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আজ তিনি আফ্রিকায় একাধিক ব্যবসার মালিক এবং COGEF নামক FMCG Group-এর প্রধান। আজ, COGEF-এর ব্যবসা ছড়িয়েছে আফ্রিকা ও এশিয়ার নানা দেশে। শুধু মোজাম্বিকেই ২৫টির বেশি সুপারমার্কেট, ১০৫টি স্টোর, ৫টি কারখানা, ৩৮টি গুদাম এবং আফ্রিকার ৮টি দেশে তাঁদের অফিস রয়েছে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে প্রচুর মানুষের জীবিকার পথ প্রশস্থ হয়েছে। আফ্রিকায় অন্তত সাড়ে তিন হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে তাঁরই হাত ধরে।

রিজওয়ান আদাতিয়ার জন্ম গুজরাতের পোরবন্দরে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে। বাবা নুরুদ্দিনভাই বাবুভাই সিংওয়াদা চিনেবাদাম বিক্রি করতেন। সেই আয়ে ৯ জনের পরিবারের সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হত তাঁদের গৃহিণী মাকে। একদিকে তাঁর বাবা দিনরাত কঠোর পরিশ্রম করতেন, অন্যদিকে তাঁর ভাইবোনেরাও কিছু না কিছু কাজ করে পরিবারে সাহায্য করতেন। রিজওয়ানও পড়াশুনো চলাকালীন স্থানীয় মুদি দোকানে কাজ করতেন। রিজওয়ান সবসময় একজন স্বাবলম্বী এবং সফল ব্যবসার মালিক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। সেই স্বপ্ন সফল করতে তাঁকে সাহায্য করেছিলেন তাঁরই এক ভাই আশিক। রীতিমতো সে হাত ধরে তাঁকে সাফল্যের পথ চেনান।

দোকানে কাজ করার সময়, রিজওয়ান ব্যবসার জন্য জরুরি অনেক মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। কয়েক বছর পর, আশিক ভাই তাঁকে বাণিজ্যের কৌশল বোঝাতে এবং ব্যবসার জগতে পা রাখার জন্য আফ্রিকায় নিয়ে যান। ১৯৮৬ সালের আগস্টে রিজওয়ানের নতুন জীবনের সূচনা হয়। পোরবন্দর থেকে মুম্বই হয়ে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর কিনশাসায় উড়ে যান তিনি। এরপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি রিজওয়ানকে। আজ, তিনি শুধু একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীই নন, উদার মানসিকতার জন্যও পরিচিত। তাঁর এনজিও, RAF Global-এর মাধ্যমে আফ্রিকার ৪টি দেশ এবং এশিয়ার ৩টি দেশে অন্তত ১০ লক্ষ মানুষ কোনও না কোনওভাবে উপকৃত হয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Recent Comments