যানবাহন শিল্পে কতরকম এক্সপেরিমেন্ট যে চলছে, জানলে আশ্চর্য হতে হয়। প্রতিদিন নতুন নতুন প্রযুক্তি যোগ করার পাশাপাশি সম্পূর্ণ বিপরীতধর্মী যানবাহনকে ভেঙে-গড়ে তৈরি হচ্ছে নতুন ধরনের গাড়ি। এমনই এক উদ্ভট গাড়ির কাহিনি আজ শোনাব আপনাদের। সেই গাড়ি যেমন রাস্তাতে চলবে, জলেও চলতে পারবে স্বচ্ছন্দে। কারণ এই মাল্টিপারপাস ভেহিকেলটি বাইক এবং বোট বা নৌকা হিসেবে উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যাবে। শুধু তাই নয়, তাতে রয়েছে একটি ছোট্ট কামরা। বনের মধ্যে হোক অথবা কোনও প্রান্তরে কিংবা কোনও লেকের মধ্যে ইচ্ছেমতো ভেসে থাকার সময় সেখানে দুজন মানুষ আরামে ঘুমোতেও পারবে। ও হ্যাঁ, রান্না করে খাবেন? তার জন্য ক্ষুদ্র একটি কিচেনও রয়েছে সঙ্গে।
ইউরোপের লাতভিয়ার একটি সংস্থা ‘জেল্টিনি’ বের করেছে এই থ্রি-ইন-ওয়ান গাড়ি। নাম দিয়েছে ‘জেড-ট্রাইটন’। তাকে বাইক বলাও যাবে, আবার বোট বললেও আপত্তি থাকার কথা নয়। তবে এই বাইক সাধারণ বাইকের মতো দুচাকার না। এটি আসলে তিনচাকার বাইক। বাইকটিতে প্রাথমিকভাবে আড়াইশো-ওয়াটের দুটি বৈদ্যুতিক মোটর রয়েছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে বা শরীরের ঘাম ঝরাতে চাইলে প্রয়োজনে প্যাডেল করে চালানোও যাবে এই ট্রাইসাইকেল। এর ছাদে রয়েছে একটি সোলার প্যানেল, যা এতে থাকা ব্লু-টুথ স্পিকারের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজ করে। এর ছাদের একটি অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হল, সেখানে থাকছে বিশেষভাবে নির্মিত একটি পাত্র, যাতে আপনার প্রিয় টবের গাছটি সঙ্গে নিতে পারেন।
জেড-ট্রাইটনকে বাইক থেকে নৌকোয় পরিণত করা একদম সহজ কাজ। আপনাকে যা করতে হবে তা হল, বাইকের চাকাগুলিকে স্রেফ উপরে তুলে দিতে হবে, স্টেবিলাইজারগুলিকে সংযুক্ত করতে হবে, কেবিন থেকে বোটের জন্য নির্দিষ্ট বৈদ্যুতিক মোটরটি সক্রিয় করতে হবে। ব্যাস, ‘চালাও পানসি বেলঘরিয়া’ বলে জলের ওপর চলতে থাকুন। নির্মাতারা জানিয়েছেন, গোটা প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে পাঁচ মিনিটেরও কম সময় নেয়। তাছাড়াও মোটরের জন্য বৈদ্যুতিক পাওয়ার ফুরিয়ে গেলেও চিন্তার কিছু নেই। কারণ বোট চালানোর বিকল্প উপায় হিসাবে দাঁড় বাইতেও পারবেন। কল্পনা করুন, আপনি ও আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনী মিলে একটি হ্রদের মাঝখানে রাত কাটাচ্ছেন। তবে এটি আপাতত ইউরোপের কয়েকটি নির্দিষ্ট দেশে বিক্রি হচ্ছে। দাম পড়ছে ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় সাড়ে তেরো লক্ষ টাকার মতো।
