Saturday, April 18, 2026
Homeখবরআস্ত মানুষকে গিলে নিতে পারবে এই মাছ! দুটো মানুষ-সমান লম্বা মাছ ধরা...

আস্ত মানুষকে গিলে নিতে পারবে এই মাছ! দুটো মানুষ-সমান লম্বা মাছ ধরা পড়ল নদীতে ছিপে উঠল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মাগুর মাছ! মাছ তো নয়, যেন দৈত্য! দেখুন বিস্তারিত

নদীতে ছিপ ফেলে চুপচাপ বসেছিলেন মাছশিকারী। ছোট ডিঙিতে বসেছিলেন দীর্ঘক্ষণ। আচমকা হুইলের সুতোয় হ্যাঁচকা টান। তারপর বেশ কয়েক মুহূর্ত চুপচাপ। তারপর বিশাল আলোড়ন উঠল জলে। অভিজ্ঞ মাছশিকারী বুঝলেন, আজ বড় দাঁও মারতে চলেছেন। কিন্তু মাছ ধরার হুইল ধরে রাখাই ক্রমশ অসম্ভব হয়ে উঠল তাঁর কাছে। ডিঙিনৌকো উল্টে যাওয়ার আগে মাছশিকারী লাফিয়ে পড়লেন নদীর জলে। সাঁতরাতে লাগলেন। একদিকে প্রচণ্ড শক্তিশালী অদেখা মাছের টান, অন্যদিকে, জলের স্রোত, কাদা আর জলের মধ্যে আটকে থাকা গাছের শিকড়বাকড় বাধা হয়ে উঠল। টানা ৪০ মিনিট ধরে চলল মাছে-মানুষে টানাটানি। শেষমেশ দৈত্যাকৃতির মাছ খানিক শক্তি হারিয়ে দেখা দিল জলের ওপরে। ধরা পড়ল এ যাবৎ বিশ্বের সবচেয়ে বড় মাগুর মাছ। লম্বায় সেটি প্রায় ১০ ফিট।

এতবড় মাছ ধরতে পারা সত্যিই এক অবিশ্বাস্য ব্যাপার। দিনকয়েক আগেই এই দানবাকৃতির মাছ ধরা পড়েছে ইতালির দীর্ঘতম পো নদীতে। ধরেছেন আলেসান্দ্রো বিয়ানকার্ডি নামে এক মৎস্যশিকারী। বিগত ২৩ বছর ধরে ছিপে মাছ ধরছেন তিনি। এই মাগুর মাছটি আগের রেকর্ড বৃহত্তম ক্যাটফিশের চেয়ে ৪ সেন্টিমিটার বড় হওয়ায় নিতুন বিশ্বরেকর্ডের দাবিদার হয়েছেন আলেসান্দ্রো। ‘মনস্টার ফিশ’ হস্তগত করে আলেসান্দ্রোর মনে আনন্দের সীমা নেই। কীভাবে এই অসাধ্যসাধন করেছেন তার বর্ণনা করে তিনি বলেছেন, টানা লড়াইয়ের পর মাছটা জলের ওপরে প্রথমবার ভেসে ওঠার সময় আমি যেন একটা দৈত্যকে দেখলাম। আমি সেটিকে একটি প্রাগৈতিহাসিক মাছ বলে মনে করছি। কীভাবে এই অতিকায় মাছকে বাগে আনলেন তিনি? মাছটিকে তুলে আনার পর কী করলেন ওই মাছশিকারী?

প্রথমে খেলিয়ে খেলিয়ে সুতো গোটাতে লাগলেন তিনি। মাছটি কাছাকাছি আসতেই তার বিশাল হাঁয়ের মধ্যে বারকয়েক হাত ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে আলেসান্দ্রো বুঝলেন এ বড় কঠিন ঠাঁই। তিনি তখন একবারে একা। অন্যদিকে, নোঙর না করায় ডিঙিটাও ভেসে যাচ্ছে। সেই অবস্থায় লোকজন ডাকতে শুরু করলেন আলেসান্দ্রো। কিছুটা দূরে থাকা তাঁর বন্ধু মার্কো এ দৃশ্য দেখে আশপাশের লোকজনকে ডেকে আনলেন। সবাই মিলে জাপটে ধরে দৈত্যকার মাছটিকে তুলে আনলেন পাড়ে। একটি চাদরের ওপর সেটিকে রেখে ফিতে দিয়ে মাপতে বসলেন তাঁরা। বারবার মেপে দেখলেন, সেটির দৈর্ঘ্য ঠিক ৯ ফিট ৪ ইঞ্চি। প্রকাণ্ড মাছটিকে মেপে দেখার কৌতূহলও চেপেছিল তাঁদের মাথায়। কিন্তু বিরলতম মাছটিকে আর কষ্ট দিতে রাজি হননি আলেসান্দ্রো। তাই প্রাচীনতম মাছটিকে ছেড়ে দেওয়া হয় ‘পো’ নদীর জলেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Recent Comments