Saturday, April 18, 2026
Homeখবর৩৬০০০ শিক্ষকের ভবিষ্যত এখন দোলা চলে ! এমন দুর্নীতি আগে দেখেনি বাংলা!...

৩৬০০০ শিক্ষকের ভবিষ্যত এখন দোলা চলে ! এমন দুর্নীতি আগে দেখেনি বাংলা! নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বিচারপতির রায়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন চাকরীপ্রার্থীরা! এই পরিস্থিতিতে কি বলছে পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা পর্ষদ?

সেই আগের বছর নিয়োগ দুর্নীতি কান্ডে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গ্ৰেফতারি। তারপর থেকেই শিক্ষাক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির জালে জড়িয়েছে একের পর এক নেতা মন্ত্রীরা। তদন্ত যত এগিয়েছে পেঁয়াজের খোসার মতো বেরিয়ে এসেছে একের পর এক নাম।

শুধু তাই নয়, বেআইনি ভাবে যে একের পর এক শিক্ষক নিয়োগ হয়েছিল মিলেছে তার হদিশ। ২০১৬ সালের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে যে ভাবে ইন্টারভিউ হয়েছিল তার সঙ্গে কার্যত স্থানীয় ক্লাব পরিচালনার মিল পেয়েছেন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।

শুক্রবার তাঁর রায়ে একেবারে শিক্ষক থেকে পার্শ্বশিক্ষক হয়ে গিয়েছেন ৩৬ হাজার প্রাথমিক শিক্ষক। ঠিক কি হয়েছে? দেখুন আজকের প্রতিবেদনে। বিচারপতির রায়ে বলা হয়েছে, শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্য বরাদ্দ নম্বরে একেবারে তলানিতে ঠাঁই পাওয়া প্রার্থীরা ইন্টারভিউয়ে কার্যত ১০-এ ১০ পেয়েছেন।

কোর্টের পর্যবেক্ষণ, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক এবং টেট-এ ধারাবাহিকভাবে খারাপ ফল করা পড়ুয়া কী ভাবে পুরো নম্বর পাওয়ার মতো ইন্টারভিউ দিলেন তার সদুত্তর মেলেনি। তার ফলেই এই পুরো প্রাথমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বিচারপতির মন্তব্য, “এত বড় দুর্নীতি পশ্চিমবঙ্গ আগে দেখেনি।”

অ্যাপ্টিটিউড টেস্ট না হওয়ার পাশাপাশি ইন্টারভিউয়ে কী ভাবে নম্বরের অসঙ্গতি আছে সেটাও উল্লেখ করা হয়েছে এই রায়ে। এই বেনিয়মের সঙ্গে দুর্নীতির সম্পর্ক থাকার কথাও বলেছেন তিনি। যারা চাকরি খুইয়েছেন তাঁরা যদি নতুন করে ইন্টারভিউ পাশ করেন তাহলে তাঁরা চাকরি ফিরে পাবেন। না হলে তাঁদের চাকরি খোয়াতে হবে।

এবার এই রায়ের প্রতিবাদেই পথে নামলেন শিক্ষকদের একাংশ। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অফিসে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার আগে প্রায় হাজার খানেক শিক্ষক উন্নয়ন ভবনের সামনে জড়ো হয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা অ্যাপ্টিটিউড টেস্ট দিয়ে নিয়মমাফিক চাকরি পেয়েছেন। এখন তাঁদের রুটিরুজি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

শিলিগুড়িতেও এক দল শিক্ষক পথে নেমে বিক্ষোভ দেখান। দক্ষিণ দিনাজপুরে প্রায় হাজার জনের চাকরি গিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, সব নিয়ম মেনেই ইন্টারভিউ হয়েছিল। অন্য কোথাও গোলমাল হলে নির্দোষদের চাকরি নিয়ে টানাটানি হবে কেন?

এ ব্যাপারে তাঁরাও আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন। পার্শ্বশিক্ষকের হারে বেতন পেলে অনেকেরই সংসার চলবে না বলেও জানান। পর্ষদের সভাপতি গৌতম পাল বলেছেন, “বেনিয়মের জেরে নিয়োগ বাতিল”

তাই হাই কোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা সুপ্রিম কোর্টে যাবেন। মাত্র ১২০ জন মামলাকারীর জন্য পুরো ইন্টারভিউ কেন বাতিল হল এবং এত দিন পরে বেনিয়মের কথা কেন মনে পড়ল সে প্রশ্ন ও তুলেছেন পর্ষদের কর্তারা। যদিও চাকরিপ্রার্থীদের অনেকের বক্তব্য, পর্ষদ তো তালিকাই বের করেনি।

মামলার জেরে ইন্টারভিউয়ের নম্বর প্রকাশ করতেই পর্ষদের কারচুপি ধরা পড়ে গিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, “এখন ফেঁসে গিয়ে পর্ষদ কর্তারা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছেন।”

এবিষয়ে উত্তর দিনাজপুরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “৩৬ হাজার জনের পরিবার কী ভাবে চলবে? তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গকে এমন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে যেখানে লোকে রাস্তায় নেমে মারামারি করবে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Recent Comments