মুকেশ আম্বানি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনীদের অন্যতম। তাঁরা টাকার কুমির। শুধু বিপুল অঙ্কের অর্থের মালিকই নন, ধনকুবের মুকেশের রয়েছে একটা বিশাল বড় হৃদয়ও। সময়ে সময়ে সেকথার প্রমাণও পাওয়া গিয়েছে। একবার নিজের সংস্থার একজন পুরনো কর্মীকে উপহার দিয়েছিলেন দেড় হাজার কোটি টাকার বাড়ি। মুকেশের বাড়িতে যাঁরা কাজ করেন, মোটা অঙ্কের বেতনের পাশাপাশি আরও অনেক সুবিধা পান তাঁরা। এই কর্মীদের এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য রয়েছে বিমার সুবিধা। কর্মচারীদের সন্তানদের পড়াশোনার খরচ থেকে শুরু করে বিদেশে পড়াশোনার খরচও যোগানো হয় মুকেশের সংস্থার তরফ থেকে। কত টাকা মাইনে পান যাঁরা মুকেশ আম্বানির বাড়িতে রান্না করেন? জানব। তার আগে জেনে নেওয়া যাক, আম্বানির বাড়ির রাঁধুনিদের এলেম সম্পর্কে।
আম্বানিদের বাড়ির রাঁধুনিরা যেমন-তেমন রাঁধুনি নন মোটেই। নামীদামি দেশি-বিদেশি সংস্থায় পড়াশোনা এবং কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁদের। সবসময় পরিপাটি পোশাক পরে রান্না করেন। তাঁরা চলন-বলনেও ভারী চোস্ত। রন্ধনশিল্পীদের বেশিরভাগই একাধিক ভাষায় কথা বলতে পারেন এবং যেকোনও ধরনের খাবারদাবার তৈরি করতে সিদ্ধহস্ত। ইন্ডিয়ান হোক বা মোগলাই, চাইনিজ হোক বা কন্টিনেন্টাল– যেকোনও খানা তাঁদের হাতের ছোঁয়ায় হয়ে ওঠে অমৃত। চটজলদি খাবার তৈরিতেও তাঁরা মাহির। আম্বানিদের বিলাসবহুল বাড়ি ‘অ্যান্টিলিয়া’-য় রাঁধুনিদের থাকার জন্য পৃথক ঘরের ব্যবস্থা রয়েছে। তাঁরা যখনই চাইবেন বাড়িতে ফিরেও যেতে পারেন। তবে রাঁধুনিদের প্রধান যিনি, তাঁকে নাকি থাকতেই হয় অ্যান্টিলিয়াতে। রাঁধুনি এবং অন্যান্য গৃহকর্মীদের অ্যান্টিলিয়ায় যাতায়াতের জন্যও আলাদা আলাদা গাড়ির ব্যবস্থা রয়েছে।
রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের কর্ণধার মুকেশ আম্বানি এবং তাঁর স্ত্রী নীতা ও পরিবারের অন্যদের আয় রাজার ধনকেও হার মানাবে। আম্বানি পরিবারের লোকজন যেসব পাত্রে খানাপিনা করেন, সেগুলির মূল্যও কোটি টাকা ছাড়াবে। তবে আম্বানিরা নিরামিষভোজী। মুকেশ আম্বানি তাঁর খাবারদাবার সম্পর্কেও বিশেষ সচেতন। নানা ধরনের ভারতীয় খাবার ছাড়াও ভালবাসেন থাই খাবার খেতে। পাশাপাশি প্রতি রবিবার তাঁর ছুটির দিনে মুকেশের পাতে দক্ষিণ ভারতীয় পদ থাকা চাই-ই চাই। ইডলি-সাম্বার তাঁর প্রিয় দক্ষিণ ভারতীয় পদ। মুকেশ আম্বানি রুটি-সবজি, ডাল, ভাত, চটপটির মতো সাধারণ খাবার খেতেও পছন্দ করেন। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিমাসে বেতন বাবদ ২ লক্ষ টাকা করে পান মুকেশ-নীতার রাঁধুনিরা। হ্যাঁ, আম্বানি পরিবারের রাঁধুনির মাইনে শুনলে মুখ লুকোবেন যেকোনও ব্যবসায়ী এবং শিল্পপতিও।
