Friday, April 17, 2026
Homeখবরপাকিস্তানকে ৮১৯২ কোটি টাকা দিয়ে সাহায্য করলো চিন এবার কি তবে হাল...

পাকিস্তানকে ৮১৯২ কোটি টাকা দিয়ে সাহায্য করলো চিন এবার কি তবে হাল ফিরবে পাকিস্তানের? নাকি চিনের ঋণের ‘জালে’ জড়ালো পাকিস্তান? শেষমেশ পাকিস্তানেরও শ্রীলঙ্কার মতো হাল হবে না তো?

পাকিস্তানে চরম অর্থসংকট। জিনিসপত্রের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে। সেদেশের লোকে দুবেলা দুমুঠো খেতে পাচ্ছে না। অবস্থা এতটাই সঙ্গীন যে, খাবার সংগ্রহ করতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। আবার গমের ট্রাকের পেছনে ভুখা জনতার দৌড়ের ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে। উল্টোদিকে, আসছে নভেম্বরে দেশের ভোটের কথা মাথায় রেখে বাজেটে সরকারি কর্মীদের বেতন ৩৫ শতাংশ বাড়ানোর কথা ঘোষণা করেছে পাক সরকার। অথচ ভাঁড়ে মা ভবানী অবস্থা! বিদেশি মুদ্রার ভাঁড়ার তলানিতে ঠেকেছে। পাশাপাশি ঋণের পরিমাণও বেড়েছে হু হু করে। একপ্রকার ধুঁকছে পাকিস্তানের অর্থনীতি। ঠিক এই পরিস্থিতিতে ‘বন্ধু’ চিনের কাছ থেকে ১ বিলিয়ন ডলার অর্থসাহায্য নিল পাকিস্তান। যা ভারতীয় মুদ্রায় ৮১৯২ কোটি টাকার মতো। ক্রমাগত চিনের ঋণের ‘জালে’ জড়িয়ে পড়া পাকিস্তানের হাল শেষমেশ শ্রীলঙ্কার মতো হবে না তো? শঙ্কা জাগছে পাক নাগরিকদের মনে।

বেশ কয়েক বছর ধরে চিনের কৌশলী ‘ঋণের ফাঁদ’ কপালে ভাঁজ ফেলছে অনেক দেশের। মূলত এশিয়া এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশকে অর্থসাহায্য দিয়ে কার্যত দেশগুলিকে নিজেদের বশে নিয়ে আনতে মরিয়া চিন। শ্রীলঙ্কার নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটই তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। চিন জানে, দক্ষিণ এশিয়ায় তাকে যেকোনও দিক থেকে যদি কেউ টক্কর দিতে পারে, সে হচ্ছে ভারত। তাই অনেকদিন ধরে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলির ওপরেও বিশেষ নজর রয়েছে চিনাদের। শ্রীলঙ্কা বা পাকিস্তানের মতো বাংলাদেশ ও নেপালকেও এই ‘ঋণের ফাঁদে’ জড়াতে চায় চিন। পাকিস্তান ইতিমধ্যেই চিনের জালে পা দিয়ে বসে আছে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এর নামে। আর এবার আর্থিক সংকট থেকে দেশকে বাঁচাতে ‘চায়না ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্ক’-এর থেকে ৮১৯২ কোটি টাকা হাত পেতে নিল পাকিস্তান। যা দেখেশুনে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে সচেতন পাকিস্তানিদের।

এর আগে দেশের আর্থিক হাল ফেরাতে আইএমএফ-এর কাছে ১ বিলিয়ন ডলার অর্থসাহায্য চেয়েছিল পাকিস্তান। ২০১৯ সালের ‘এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফেসিলিটি’ অনুযায়ী ধাপে ধাপে পাকিস্তানকে মোট আড়াই বিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা আইএমএফ-এর। তবে সেই টাকা পাওয়ার বিষয়টা নির্ভর করছে, তারা আইএমএফ-কে কতটা ‘খুশি’ করতে পারছে তার ওপরেই। এদিকে, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক পেশ করা বাজেট সন্তুষ্ট করতে পারেনি আইএমএফ-কে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে অনেক দেশই তাদের অর্থসাহায্য করতে এগিয়ে আসছে না। এই অবস্থায়ই চিনাদের টাকায় দেশের বেহাল অর্থনীতির হাল ফেরানোর চেষ্টা হবে বলে দাবি করছে পাক সরকার। যদিও প্রশ্ন উঠেছে, এই সাহায্যে আদৌ কি পাকিস্তানের মূল সমস্যার সমাধান হবে? নাকি চিনের বশবর্তী হয়ে থাকতে বাধ্য হবে পাকিস্তান?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Recent Comments