সাইক্লোন মোকা যযে ভয়াবহ তাণ্ডব চালাবে, তা আগেই বলা হয়েছিল সতর্কবার্তায়। তবে এতটা ভয়াবহ আকার নেবে, তা হয়তো কম লোকই আন্দাজ করতে পেরেছিল। এমনকী, একাধিক আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ১৭০-১৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু কার্যত দেখা গেল ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার বেগে মোকার তাণ্ডব। মায়ানমার উপকূল এলাকায় ঝড়ের পাশাপাশি প্রবল বৃষ্টিও দেখা গেছে। তৈরি হয়েক্সহে বন্যা পরিস্থিতিও। ক্ষতির মুখে মায়ানমারের পাশাপাশি বাংলাদেশও।
সাইক্লোন নিয়ে আশঙ্কা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তৈরি হচ্ছিল বঙ্গবাসীর মনে। তবে শেষমেশ সাইক্লোনের তাণ্ডব থেকে বেঁচে গেছে মায়ানমার ও বাংলাদেশের সাগর উপকূল এলাকাতে। সংবাদসূত্রে দাবি করা হয়েছে, মায়ানমারের উপকূল এলাকায় ঘণ্টায় ১৯৫ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের তাণ্ডব চালিয়েছে মোকা। যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে শুরু সাধারণ জনজীবন বিপর্যয়ের মুখে। সিতওয়া, কিয়াউকপিউ ও গওয়া শহরে বাড়িঘর, বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার, মোবাইল ফোনের টাওয়ার, ল্যাম্পপোস্ট ভেঙে পড়েছে বহু সংখ্যায়। সোস্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে মায়ানমারের বিপর্যয়ের দৃশ্য। এমনকী মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। সকালে পাওয়া খবর অনুযায়ী, বাড়ির ছাদ ভেঙে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে তাণ্ডবের ছবি ধরা পড়েছে বাংলাদেশেও। উপকূলীয় এলাকায় আগেই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছিল। মাঝরপাড়া, কোনারপাড়া, গলাচিপা, পশ্চিমপাড়া, দক্ষিণপাড়া, উত্তরপাড়া এলাকায় বহু বাড়ি ভেঙেছে। প্রবল জলোচ্ছ্বাসে একাধিক গ্রামের পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। অন্তত সাড়ে ৩০০ বাড়ি ভেঙেছে মোকার তাণ্ডবে। কক্সবাজারে ৫ লক্ষেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরানো হয়েছে বলে খবর। তবে শুধু কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন নয়, টেকনাফ দ্বীপেও ঝড়ের তাণ্ডব দেখা গেছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পায়রা সমুদ্রবন্দর কার্যত স্তব্ধ হয়ে রয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন পরীক্ষাও স্থগিত রাখা হয়েছে। স্কুলে ছুটি ঘোষণা কর। হয়েছে।
তবে সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হল, উদ্ধারকার্য সঠিকভাবে করা যাচ্ছে না। এমনই ভয়াবহ পরিস্থিতি। সব মিলিয়ে লন্ডভন্ড অবস্থা মায়ানমার ও বাংলাদেশের। ত্রাণকার্য শুরু হয়েছে।
