নিয়োগ দুর্নীতি মামলা নিয়ে তোলপাড় রাজ্য। এদিকে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের অধীনে মামলা না থাকলেও নবনিযুক্ত বিচারপতি অমৃতা সিনহা অভিষেক ইস্যুতে পুরনো নির্দেশই বহা রেখেছেন। তার ওপর ২৫ লক্ষ টাকার জরিমানা করা হয়েছে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই নিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে জরুরি শুনানির আবেদন করা হলেও কোনও লাভ হয়নি। এবার প্রধান বিচারপতিও ফিরিয়ে দিলেন তাকে। জরুরি ভিত্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদন শুনতে রাজি হল না প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। ঠিক কী ঘটেছে আদালতে?
কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম এবং বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ ফেরাল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীকে। গ্রীষ্মের ছুটির পর আদালত খুললে শুনানি হবে বলে জানাল আদালত। কেন ফেরানো হল আবেদন?
সংবাদসূত্রে জানা গেছে, সোমবার থেকে হাই কোর্টে গ্রীষ্মাবকাশ পড়ছে। তার আগে শনি এবং রবিবার থাকবে ছুটি। এমনিতে শুক্রবার বেশ কিছু পূ্র্বনির্ধারিত মামলা রয়েছে। তাই এই ব্যস্ততার মধ্যে অভিষেকের মামলা দ্রুত শোনা আদালতের পক্ষে সম্ভব নয়।
একদিকে অভিষেক এবং অন্যদিকে নিয়োগ দুর্নীতিকাণ্ডে অভিযুক্ত কুন্তল ঘোষ জরুরি ভিত্তিতে শুনানির জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন। শুক্রবার আদালতে তা একপ্রকার অগ্রাহ্য করল বেঞ্চ। শুনতে রাজিই হয়নি বিচারপতি সুব্রত তালুকদার এবং বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ।
এদিন অভিষেকের আইনজীবীর প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে বলেন, বিষয়টি বৃহস্পতিবার আদালতে জানানো হয়েছিল। সেই অনুযায়ী মামলা ডিভিশন বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে বলে জানান বিচারপতি। তবে অভিষেকের আইনজীবীর বক্তব্য, শুক্রবার মামলার চাপ রয়েছে বলে ওই বেঞ্চ শুনতে পারবে না বলে জানিয়েছে। একথা শুনে পরামর্শ দেন প্রধান বিচারপতি। অবকাশকালীন বেঞ্চে যযাওয়ার কথা বলেন তিনি। প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্য শুনে দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করার আবেদন জানান আইনজীবী। কিন্তু তাতেও চিড়ে ভেজেনি। বিবেচনা করার অনুরোধ করা হলেও নিজের সিদ্ধান্তে বহাল থাকেন প্রধান বিচারপতি। শুক্রবার দুপুরের পর প্রতিটি বেঞ্চের ব্যস্ততার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। এরপর পুনরায় অনুরোধ করা হলেও কর্ণপাত করেননি বিচারপতি। এই মামলাটি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের নয় বলে জানান তিনি। তাই এক্ষেত্রে শুধুমাত্র মামলা করার অনুমতিই দিতে পারেন বলে জানান প্রধান বিচারপতি।
প্রয়োজন পড়লে অভিষেককেও জেরা করতে পারবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি এবং সিবিআই— এমনটাই নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। এছাড়াও অভিষেকের আদালতের নির্দেশ পুনর্বিবেচনা বা প্রত্যাহারের আবেদনে সারবত্তা নেই বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। এরপরই অভিষেক এবং কুন্তলকে মোট ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা করে আদালত। বিচারপতির এই রায়কেই চ্যালঞ্জ করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মর্মে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেন অভিষেক। কিন্তু তা দ্রুত শুনতে রাজি হয়নি বেঞ্চ। এরপর মামলাটি প্রধান বিচারপতির কাছে গেলে একই সুর শোনা গেল।
