আর মাত্র হাতে গোনা কয়েকটা দিন তারপরেই উৎসবের জোয়ারে ভাসবে বাঙালি। মাত্র পাঁচটা দিনের জন্যই ৩৬০ দিনের অপেক্ষা বাঙালির। কারণ ওই পাঁচ দিনেই হয় মায়ের বোধন থেকে বিসর্জন। তবে বাঙালির যেমন দুর্গাপূজা পাঁচদিনের অ বাঙালিরা ৯ দিন ধরে পালন করেন নবরাত্রি। এই নবরাত্রিতে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ অষ্টমীর পূজা! দুর্গা অষ্টমীর দিনেই মায়ের আসল পুজো শুরু হয়! পুষ্পাঞ্জলি সন্ধিপূজোর মত ধর্মীয় রীতি গুলি সংঘটিত হয় এই দিনে। মহাষ্টমীর পূজার রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। জ্যোতিষ শাস্ত্র থেকে চন্ডী শাস্ত্র সবকিছুতেই মহা অষ্টমী তিথির পুজোকে দেবীর মহা পূজা বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষেরা এই দিন উপবাস করে স্নান সেরে নতুন জামা পড়ে দেবীর কাছে অঞ্জলি দিয়ে থাকেন। তবে অনেক সময় জ্ঞাতসারে অথবা অজ্ঞাতসারে আমরা মহাষ্টমীর দিনে কিছু ভুল করে ফেলি। এই ভুলের মাশুল বয়ে নিয়ে বেড়াতে হয় সারা জীবন। জেনে নিন মহাষ্টমীর সময় কোন কোন ভুলগুলি করলে চলবে না। দুর্গা অষ্টমীর দিন কখনোই তুলসী গাছ অন্ধকার রাখবেন না। সব সময় তুলসীর চারপাশে প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখুন। দিনের বেলা থাকে সূর্যের আলো তবে রাতের বেলা অবশ্যই তুলসী মঞ্চ প্রদীপ দিয়ে সাজিয়ে দিন।
এই দিনে তুলসীর চারপাশ অন্ধকার রাখলে ঘরে প্রবেশ করে নেগেটিভ শক্তি। এতে ভেঙে পড়ে পরিবারের আর্থিক অবস্থা। এই দিন মহিলাদের কালো নীল এবং ধূসর বর্ণের পোশাক পরা উচিত নয়। এই তিনটি বর্ণ এই দিন অশুভ বলে গণ্য করা হয়। তাই মহা অষ্টমীর দিন লাল হলুদ গোলাপি বা সবুজের মতন উজ্জ্বল রংএর কোন পোশাক পড়ে অঞ্জলি দিন। সারাদিন এমনই পোশাক পড়ে থাকুন। দুর্গা অষ্টমীর দিনে গৃহস্থে মাঙ্গলিকযোগ্যের আয়োজন করতে পারেন। যাদের বাড়িতে দুর্গা পুজো হয় তারা অবশ্যই যজ্ঞের আয়োজন করুন।এতে বাড়ি শুদ্ধ হয়। সমস্ত ধনাত্মক শক্তি প্রবেশ করে বাড়িতে। এতে নবগ্রহ দোষ কেটে যায়।
পরিবারে আসে সুখ সমৃদ্ধি। ধর্মীয় শাস্ত্র অনুযায়ী দূর্গা অষ্টমীর পুজো শেষ হওয়ার পর বিছানায় গা এলিয়ে দেওয়া চলবে না। অর্থাৎ এই দিন ঘুমানো নিষিদ্ধ। এর ফলে উপবাস এবং মাতৃ সাধনার সমস্ত ফল কেটে যায়। তাই দিনের বেলা না ঘুমিয়ে দুর্গা দেবীর পূজার মাহাত্ম্য পাঠ করতে পারেন কিংবা মন্ত্র জপ করতে পারেন। এই দিন বাড়িতে কন্যা পুজো করতে পারেন। যারা নবরাত্রীর উপোস রাখেন তারা অবশ্যই কন্যা পুজো করুন।
এই অষ্টমীর দিনে কন্যা পুজো করলে পরিবারে আসে সুখ-শান্তি। মনে রাখবেন এই দিন কুমারী বা কন্যা পুজো করে তাদের না খাওয়ানো পর্যন্ত উপবাস থাকতে হবে। নইলে এই পুজোর ফল মিলবে না। এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত সমস্ত তথ্য হিন্দু শাস্ত্র ও গ্রন্থের উপর ভিত্তি করে তৈরি। এগুলি বিশ্বাস করাতে কোনোভাবেই বাধ্য নয় আমাদের সংবাদমাধ্যম।
