দৈত্যের মতো চেহারা। রাক্ষসের মতো খান। অসুরের মতো শক্তি। তিনি নিজেকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষ’ বলে দাবি করেন। হলিউড মুভির চরিত্র হাল্ক-এর মতো বিশাল শরীর তাঁর। প্রতিদিন অন্তত ১০ হাজার ক্যালোরি খাবার না খেলে তাঁর চলে না। ব্রেকফাস্টে থাকে ৪টে গোটা মুরগি, ৩৬টা ডিম, ৩ কিলো গোস্ত বা মাংস, ৫ লিটার দুধ এবং অন্যান্য খাবার। তাঁর দৈনিক খাবারের যা পরিমাণ, তাতে অন্তত ১৫-২০ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ভরপেট খেতে পারবেন। যেমন খেতে পারেন, তেমনই গায়ের জোর। দু’হাতে বাইক মাথার ওপর তুলে ধরেন, এক হাতে দড়ি বাঁধা ট্রাক্টর টেনে আনেন, এক হাতে একটা পূর্ণবয়স্ক মানুষকে উঁচুতে তুলে ফেলেন, ৬০০ কেজির কাছাকাছি নাকি ওজন তুলতে পারেন বলে দাবি করেন। এসবই নাকি তাঁর ‘বাঁ হাতের খেল’। উচ্চতা ছ’ফিট পাঁচ ইঞ্চি। ওজন প্রায় ৪৩৬ কেজি। ওয়েটলিফ্টার, রেসলার, এবং ইউটিউবার হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। পোশাকি নাম ‘খান বাবা’ এবং এই নামেই সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়।
এই ‘খান বাবা’-র আসল নাম অবশ্য অন্য। তাঁর প্রকৃত নাম ‘আরবাব খিজার হায়াৎ খান’। নিজেকে ‘পাকিস্তানি হাল্ক’ বলে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন তিনি। বর্তমানে তাঁর বয়স মাত্র ৩১ বছর। এই ‘খান বাবা’-র জন্ম ১৯৯২ সালের তেসরা মার্চ, পাকিস্তানের খাইবারপাখতুনখওয়ার মর্দান অঞ্চলে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বানিয়ে নিজের শক্তির নমুনা দেখান তিনি। ইউটিউব বা ফেসবুকে তাঁর অনুরাগীর সংখ্যা অনেক। পাকিস্তানে তিনি রীতিমতো হিরো। প্রতিদিনই শয়ে শয়ে মানুষ তাঁকে দেখতে ভিড় করেন। এমন প্রবল বলশালী ‘খান বাবা’-র নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষীও রয়েছে। ছোটবেলা থেকে রেসলার হওয়ার স্বপ্ন দেখা ‘খান বাবা’ বছর-সাতেক আগে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন WWE-র মহাবলী ভারতের ‘দ্য গ্রেট খলি’-কে! সেসময় পেশাদার রেসলিং থেকে অবসর নেওয়া খলি সেই চ্যালেঞ্জ অ্যাকসেপ্ট করলেও খান বাবার তরফে আর কোনও্র উৎসাহ দেখা যায়নি। এমন বীরপুরুষ ‘খান বাবা’-কে নানা সময়ে নানা বিতর্কিত মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে।
বছর-পাঁচেক আগে হাতে একটি অত্যাধুনিক বন্দুক হাতে নিয়ে ভিডিও ছাড়েন ‘খান বাবা’। সেই ভিডিওতে তিনি সরাসরি ভারতীয় সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াতকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় সবক শেখানোর হুমকি দিয়ে ভারতীয়দের হাসির খোরাক হন। তাঁর হুঁশিয়ারি ছিল, ‘বন্দুক নয়, তোমাদের জন্য হাতই যথেষ্ট।’ এর সঙ্গে ‘হিরোশিমার চেয়েও খারাপ হাল’ করার হুমকি দেন ভারতকে! এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করা ‘খান বাবা’ দাবি করতেন তিনি রেসলিংয়ে নেমে সোনার বেল্ট জিতেছেন। তবে অন্য কুস্তিগিররা যখন তাঁকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, তিনি আর কথা বাড়াননি। এমনকি খোদ পাকিস্তানের কুস্তিগির, উসমান বুলেট, তাঁর বাড়িতে গিয়ে সেই নকল সোনার বেল্ট ছিনিয়ে নিয়ে তাঁকে লড়াই করার জন্য চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, রাজি হননি ‘খান বাবা’। উসমান বলেছিলেন, ‘ব্যাটা শুধু নকল লড়াই করতে পারে; তার সত্যিকারের লড়াই করার সাহস নেই। আর এতবড় মাজা কারও নেই, সে এটা কায়দা করে দেখাচ্ছে।’ এর জবাবও দেননি ‘খান বাবা’।
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বিবেচিত ওয়েটলিফ্টার এডি হল-এর ৫০০ কেজি ওজন তোলার রেকর্ড সম্পর্কে ‘খান বাবা’ মন্তব্য করেছিলেন, ‘আমি যদি ৬০০ কেজি তুলতে না পারি, আর কখনও নিজেকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষ বলব না।’ শুনে এডি হল বলেছিলেন, ‘তুমি ইংল্যান্ডে এসো, এবং তোমার আর আমার মধ্যে একটা করে চড় মারার লড়াই হোক।’ এডি হল ‘পাকিস্তানি হাল্ক’-কে ব্যঙ্গ করেন ‘মজার পুতুলের মতো পোশাক পরে’ থাকা এবং বড় চেহারা দেখাতে অতিরিক্ত পোশাক ব্যবহার করার জন্য। এই ‘ফ্যাটস্যুট’-এর বিষয়টি উল্লেখ করে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, ‘খান বাবা’-কে কখনওই খালি গায়ে দেখা যায়নি। কেন? যাইহোক, ‘খান বাবা’-র দাবি, অতিরিক্ত ওজন ছাড়া তাঁর অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা নেই। WWE-র মঞ্চে যাওয়াই এখনও তাঁর একমাত্র স্বপ্ন। বিয়ে করেননি। বা বলা ভাল, তাঁর বিয়ে হয়নি। জানা গিয়েছে, গত ৭-৮ বছরে অন্তত ৩০০ জন কনে দেখেছেন, সকলেই তাঁকে বিয়ের পাত্র হিসেবে রিফিউজ করেছেন।
