নাগপুরের বাসিন্দা ৬০ বছরের সঞ্জু ভগৎ। দিনমজুর সঞ্জু তাঁর ফোলা পেট নিয়ে ভীষণ রকম বিব্রত ছিলেন। পূর্ণ সময়ের গর্ভবতী মহিলাদের মতো তাঁর স্ফীতোদর দেখে লোকে প্রকাশ্যেই হাসিমস্করা করত। তাঁকে ‘সন্তানসম্ভবা পুরুষ’ বলেও উপহাস করত অনেকে। এভাবে চলছিল টানা ৩৬ বছর। বিশাল পেট নিয়ে কাজকর্ম করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠছিল। পরের দিকে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিল ভগতের। অবশেষে জানা গিয়েছে, বিরল শারীরিক জটিলতার শিকার ভগৎ। চিকিৎসা পরিভাষায় একে ‘ভ্রূণের মধ্যে ভ্রূণ’ বলা হয়, যা সাধারণত ‘ভ্যানিশিং টুইন সিনড্রোম’ নামে পরিচিত। এমন অবস্থাটি ঘটে গর্ভাবস্থায় ভ্রূণ গঠনের সময়, যমজের একটি অন্যটির মধ্যে সেঁধিয়ে যায়। এই অদ্ভুত ঘটনা প্রতি ৫ লক্ষের মধ্যে মাত্র একটিতে দেখা যেতে পারে, যেখানে একটি যমজ অন্যটির ভিতরে জন্মগ্রহণ করে।
অথচ ছোটবেলায় সঞ্জু অন্যান্য শিশুদের মতোই সুস্থ-স্বাভাবিক ছিলেন। বছর-কুড়ি বয়স হতেই তাঁর পেট ফুলতে শুরু করে। প্রথমে বিষয়টিকে অগ্রাহ্য করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যেতে থাকে পেটের আকৃতি। ক্রমে অসহ্য হয়ে ওঠে নিজেরই পেট। প্রথমে চিকিৎসকরাও কিছু বুঝে উঠতে পারছিলেন না। পরীক্ষানিরীক্ষতেও কিছু ধরা পড়ছিল না। পরে তারা সন্দেহ করেন, সম্ভবত সঞ্জু ভগতের পেটে টিউমার জাতীয় কিছু বাড়ছে। তিনি মুম্বাইয়ের হাসপাতালে গেলেন চিকিৎসার জন্য। চিকিত্সকরা ভেবেছিলেন তাঁর পেটে একটি বিশালাকার টিউমার থাকতে পারে, তাই তারা অপারেশন করে সেটি বের করে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু পেট কেটে ফেলার পর হতবাক হয়ে যান চিকিৎসকরা। দেখা যায়, যেটাকে টিউমার বলে ভেবেছিলেন, সেটা আদতে একটি ভ্রূণ!
ভ্রূণটির হাত-পা তৈরি হলেও শারীরিক গঠনের বাকি অংশ সম্পূর্ণ হয়নি। আসলে সেটি ছিল, একটি অপরিণত ভ্রূণ। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের সময় প্রাথমিকভাবে ভ্রূণটির একটি হাত দেখা যায়। পরে আরও একটি হাত নজরে আসে। এরপর ক্রমে চুল, পা, যৌনাঙ্গ এবং চোয়ালের অংশ দৃশ্যমান হয়। প্রথমে ঘাবড়ে গেলেও পরে চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন, এভাবেই যমজ ভাইকে শরীরে নিয়েই জন্মেছিলেন সঞ্জু ভগৎ। বিরল এই শারীরিক জটিলতা নিয়েই বড় হয়েছেন। শুধু তাই নয়, দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে পেটের মধ্যে সেই অপূর্ণ ভ্রূণ বয়ে বেড়িয়েছেন। মাতৃগর্ভে যমজ ভ্রূণ গড়ে ওঠার সময়ে, খুব অল্প ক্ষেত্রে একটি ভ্রূণ ঢুকে যায় অন্যটির শরীরে। ভেতরের সেই ভ্রূণটি পূর্ণতা না পেলেও তাকে নিয়েই বেড়ে ওঠে অন্য ভ্রূণটি। অবশেষে যাবতীয় যন্ত্রণা থেকে মুক্তি। অস্ত্রোপচারের পর থেকে সুস্থই রয়েছেন ভগৎ।
