একদিন বাদেই রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন। এই আবহেই ফের প্রশ্নের মুখে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ কর্মসূচি-সহ চারটি অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কমিশনের তরফে কেন কোনও পদক্ষেপ নয়? প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট?
পঞ্চায়েত নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর থেকেই বিরোধীদের একের পর এক অভিযোগের মুখে পড়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন তথা কমিশনার রাজীব সিনহা। শাসকদলের হয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে বিরোধীদের তরফে। এছাড়াও পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একাধিক অভিযোগ নিয়ে বারবার কলকাতা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হতে দেখা গেছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। এবার ফের কলকাতা হাইকোর্টে চারটি বিষয়ে আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘন করার অভিযোগে মামলা দায়ের করলেন শুভেন্দু অধিকারী।
একমাস আগেই সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী নামে হেল্পলাইন চালু করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল বঙ্গ রাজনীতিতে। অনেকটা ‘দিদিকে বলো’-র ধাঁচেই এই কর্মসূচি। ৮ জুন নবান্নে এই কর্মসূচির ঘোষণা করেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। মূলত সাধারণ মানুষ তাদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন এই হেল্পলাইন নম্বরে– এমন উদ্দেশ্যেই মুখ্যমন্ত্রী ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন। বৃহস্পতিবার আদালতে উঠল এই কর্মসূচি সহ আরও চারটি অভিযোগের প্রসঙ্গ। মামলা করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার এই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের প্রশ্নের মুখে পড়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।
চার-চারটি অভিযোগ ওঠা সত্ত্বেও কেন কমিশন উপযুক্ত পদক্ষেপ করল না? এদিন হাইকোর্টে এই প্রশ্নই উঠেছিল। আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে আদালতে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মামলায় তাঁর আইনজীবী শ্রীজীব চক্রবর্তী এদিন আদালতে জানান যে, ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ কর্মসূচিতে যে নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে, তা রাজনৈতিক কর্মসূচি ‘দিদিকে বলো’-য় ব্যবহৃত ফোন নম্বর। একই নম্বর কীভাবে দলীয় ও প্রশাসনিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হতে পারে?
এই প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দুর আইনজীবী। এদিন শ্রীজীব চক্রবর্তী তৃণমূলের এক প্রার্থীর বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগও তুলেছেন। সেই তৃণমূল প্রার্থী জলপাইগুড়ির জেলা পরিষদের অন্তর্ভুক্ত বলে জানিয়েছেন তিনি। শুভেন্দুর আইনজীবীর অভিযোগে পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার অমরনাথের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তিনি তৃণমূলের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানান আইনজীবী।
সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী কর্মসূচির বিজ্ঞপ্তির কথা তুলে শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী অভিযোগ তোলেন, এতে নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে। একদিন আগে অর্থাৎ বুধবার শুভেন্দুর করা এই মামলাটি বিচারপতি অমৃতা সিংহের এজলাসে শুনানির জন্য ওঠে। এদিন এটিকে তিনি জনস্বার্থ মামলা হিসাবে গণ্য হওয়া উচিত মনে করে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের এজলাসে পাঠান।
এরপর আজ প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম এবং বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চে ওঠে মামলাটি। ডিভিশন বেঞ্চ বিষয়টি শোনার পর জানান, অভিযোগ আসার পরেই রাজ্য নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ করা উচিত ছিল। অবশ্য এই বিষয়ে কমিশনের বক্তব্যও শুনতে চেয়েছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ।
