গরুপাচার মামলায় তিহাড় জেলে বন্দি রয়েছেন বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। তিহাড়ে রয়েছে তার মেয়ে সুকন্যা মণ্ডলও। প্রাথমিক শিক্ষকতার চাকরি করা সত্ত্বেও অস্বাভাবিক সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে কেষ্ট-কন্যাকে। এবার সেই সুকন্যাই আদালতে আর্জি জানালেন জামিনের। কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেন মামলার খরচ জোগাড় করতে পারছেন না তিনি।
প্রভাবশালী তত্ত্বের ভিত্তিতে সুকন্যার জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে এর আগে। এবার ফের জামিনের আর্জি জানালেন অনুব্রত মণ্ডল-কন্যা। দিল্লি রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টের বিশেষ আদালতের বিচারক রঘুবীর সিংহের কাছে আর্জিতে এদিন তিনি জানান যে, মামলা করার খরচ জোগাড় করতে পারছেন না। যেহেতু তিনি এবং তার বাবা অনুব্রত মণ্ডল তিহাড় জেলে বন্দি রয়েছেন, তাই আইনজীবীদের ফিজ দিতে পারছেন না তিনি। যেহেতু মা আগেই মারা গেছেন, তা তিনি এবং তার বাবা ছাড়া আর কেই বা জোগাড় করবেন! আত্মীয় পরিজনরাও এই পরিস্থিতিতে তাদের পাশে দাঁড়াতে ইতস্তত করছেন বলে জানান তিনি। এই মর্মে সুকন্যা এদিন আদালতে ছ’সপ্তাহের জন্য জামিনের আর্জি জানিয়েছেন। যে যুক্তি দিয়ে তিনি এই কথা বলতে চেয়েছেন, তাতে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন। তাকে যদি ছ সপ্তাহেরজন্য জামিন দেওয়া হয়, তাহলে তিনি মামলা লড়ার জন্য প্রয়োজনীয় টাকার ব্যবস্থা করতে পারবেন।
দিল্লি রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টের বিশেষ আদালতের ছিল জামিনের শুনানি। বিচারক রঘুবীর সিংহ এদিন সুকন্যার আর্জি শুনে তার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় এজেন্সি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের বক্তব্য জানতে চেয়েছেন। সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১০ জুলাই।
তবে এই প্রথম নয়, এর আগেই জামিনের আর্জি জানিয়েছিলেন অনুব্রত-কন্যা সুকন্যা মণ্ডল। কিন্তু ইডির তরফে বারবার প্রভাবশালী তত্ত্ব খাটানোর আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। তাই জামিনে মুক্তি দেওয়া হলে তথ্যপ্রমাণ লোপাট করার আশঙ্কাও থাকবে। এই যুক্তিতে সুকন্যার জামিনের আর্জির বিরুদ্ধে সওয়াল করেছে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। এছাড়াও সুকন্যার বিষয়ে ইডি-র অভিযোগ ছিল, তিনি গরু পাচারের কিছুই জানতেন না বলে দাবি করেছেন বটে, কিন্তু আসলে কালো টাকা সাদা করার কাজই দেখভাল করতেন সুকন্যা। তাঁর নামে চালকল-সহ নানা সংস্থার মালিকানা এবং তার কোটি কোটি টাকা আয় ছিল বলেও ইডির তরফে জানানো হয়েছে।
তবে বারবার জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় অন্য বেঞ্চেও জামিনের আর্জি জানিয়েছেন সুকন্যা মণ্ডল। সংবাদসূত্রে দাবি করা হয়েছে, রাউস অ্যাভিনিউর বিশেষ আদালতের বিচারক রঘুবীর সিংহের কাছে বারবার জামিনের আর্জি জানিয়েও তা না পাওয়ায় অন্য বিচারকের বেঞ্চে যাতে তার আর্জির শুনানি হয়, সেই আবেদন জানিয়েছেন তিনি। সেই মামলা এবং আইনজীবীদের ফিজের টাকা দিতে না পারায় করা জামিনের আর্জির বিষয়টির শুনানি হবে ১০ জুলাই।
গরুপাচার মামলায় ধৃত অনুব্রত মণ্ডল এবং তার মেয়ের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়া টাকার উৎস গরুপাচার বলেই আগে দাবি করেছিল তদন্তকারী এজেন্সি ইডি। প্রায় প্রায় ১২ কোটি ৮০ লক্ষ টাকার কথা জানিয়েছিল তারা। একজন স্কুল শিক্ষিকা হয়ে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি কীভাবে হল, তা নিয়ে বারবার তলবও করা হয়েছিল সুকন্যাকে। এবার মামলা লড়ার টাকাই নেই তার! এই যুক্তিতে জামিনের আর্জি আদালত আদৌ মঞ্জুর করে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসীর একটা বড় অংশ।
