Friday, April 17, 2026

প্রথম ও দ্বিতীয় অভিযানের পর ফের একবার চন্দ্র অভিযানে নামছে ভারত। মহাকাশে নয়া উড়ান দেবে চন্দ্রযান-৩। আর এই যানের জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ৬১৫ কোটি টাকা। খুব শিগগিরই যাত্রা শুরু করবে চন্দ্রযান রকেটটি। বুধবার এই সংক্রান্তই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করল ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। কবে চাঁদের বুকে পাড়ি দেবে চন্দ্রযান ৩?

এবারের চন্দ্র অভিযানে সাফল্য মিলবেই– আশাবাদী বিজ্ঞানীরা। ২০১৯ সালের দ্বিতীয় চন্দ্র অভিযানের আশঙ্কা এখনও দেশবাসীর মনে। সেবার চাঁদের চারপাশে ঘুরপাক খেয়েছিল চন্দ্রযান ২। ল্য়ান্ডার বিক্রমকে নিরাপদে চাঁদের মাটিতে নামানো যায়নি। উল্টে চাঁদের বুকে আছড়ে পড়েছিল সেই যানটি। ২০১৯ সালে চন্দ্রযান-২ অভিযানে বিপত্তি দেখা গিয়েছিল। চাঁদে অবতরণের সময় নির্ধারিত গতিবেগে তারতম্যের কারণেই ল্যান্ডার বিক্রম আছড়ে পড়েছিল সেবার। তবে এবার আর দুর্ঘটনার আশঙ্কা নেই বলেই মনে করছে ইসরো। তৃতীয় চন্দ্রযানটি সেভাবেই তৈরি করেছে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। সংবাদ মাধ্যম মারফত এমনটাও জানা গেছে যে, চন্দ্রযান-৩ -এ কোনও ঝুঁকি থাকছে না।

আশায় বুক বাঁধছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরাও। তৃতীয় চন্দ্র অভিযান নিয়ে আত্মবিশ্বাস ধরা পড়েছে তাদের বক্তব্যে। চন্দ্রযান ২-এর তিক্ত অভিজ্ঞতা ভোলেননি বিজ্ঞানীরা। তাই এবার দীর্ঘ সময় ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হয়েছে ইসরোর তরফে। গতবারের ভুলত্রুটিগুলি চিহ্নিত করার কাজও করেছে তারা। এছাড়াও চন্দ্র অভিযানের ক্ষেত্রে কী কী ঝুঁকি থাকতে পারে, তাও ভাল করে পর্যবেক্ষণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকেই এবারের চন্দ্রযানের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে সংবাদমাধ্যম সূত্রে। শুধু নিরাপত্তাই নয়, কীভাবে এই অভিযান সফল করা যায়, তা নিয়েও মরিয়া প্রচেষ্টা চলছে ইসরোর। ইতিমধ্যে তারা জানিয়েছে, এবারের চন্দ্রযান চাঁদকে আরও ভাল ভাবে বুঝতে ও তাকে অধ্যয়ন করতে সাহায্য় করবে।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ, তৃতীয় চন্দ্রাভিযানে প্রায় ৬১৫ কোটি টাকা খরচ পড়ছে। আগেরবারের মতো এটিতেও একটি ল্যান্ডার এবং রোভার থাকবে। নামও চন্দ্রযান-২ এর মতোই রাখা হয়েছে– ল্য়ান্ডার বিক্রম এবং রোভার প্রজ্ঞান। তবে গতবারের সঙ্গে এবারের চন্দ্রযানের মধ্যে ফারাকও রয়েছে। যেমন এবার চাঁদের চারপাশে ঘোরার জন্য কোনও অরবিটার রাখা হচ্ছে না। তবে চাঁদের কক্ষপথ থেকে পৃথিবীকে নিরীক্ষণ করার জন্য স্পেকট্রো-পোলরিমেট্রি অফ হ্যাবিটেবল প্ল্যানেট আর্থ নামের একটি পেলোড থাকছে এই চন্দ্রযানে। বুধবার এই চন্দ্রযান উৎক্ষেপণের দিনক্ষণ ঘোষণা করেছে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। শ্রীহরিকোটার সতীশ ধওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে, GSLV Mark 3 লঞ্চ ভেহিকল থেকে এই রকেটের উত্‍ক্ষেপণ হবে। আর তা হবে আগাামী ১৩ জুলাই। দুপুর ২টো বেজে ৩০ মিনিটে তৃতীয়বারের জন্য চন্দ্র অভিযানে পাড়ি দেবে চন্দ্রযান-৩।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Recent Comments