রাজ্য নির্বাচন কমিশনের হয়ে ফের কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। একা বিজেপি নেতা নন, রাজ্য নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ কংগ্রেস নেতা আবু হাসেম খান চৌধুরি ওরফে ডালুও।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ আগেই তুলেছে রাজ্যের বিরোধী দলগুলি। এছাড়া আগেরদিন খোদ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজীব সিনহার ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিয়েও তুলেছেন প্রশ্ন। আর নির্বাচন কমিশনারের কাছে অভিযোগ জানানো যে অর্থহীন, সে অভিযোগও করতে শোনা গেছে শুভেন্দুকে। এরই মধ্যে রাজ্যের পঞ্চায়েত ভোটকে কেন্দ্র করে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনল শুভেন্দু সহ কংগ্রেস নেতা।
এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশেষত মনোনয়ন পর্বেই বিক্ষিপ্তভাবে রাজ্যর বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তির খবর মিলেছে। দলীয় কর্মীদের ওপর হামলার পাশাপাশি মৃত্যুর অভিযোগও তুলেছে বিরোধীরা। ভোটকে কেন্দ্র করে অশান্তির এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য ১৪৪ ধারা জারি করেও কোনও সুরাহা মেলেনি বলে জানিয়েছে তারা। ভাঙড় ছাড়া রাজ্যের অন্যান্য জায়গায়ও দেখা গেছে একই পরিস্থিতি। এরপর কলকাতা হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় বাহিনী আনার নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশনকে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই নির্দেশ কার্যকর করার কথাও বলে আদালত। কিন্তু রাজ্যের সমস্ত জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়ন করার নির্দেশ মানেনি রাজ্য নির্বাচন কমিশন– এই মর্মে আবার হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন বিরোধীরা।
প্রধান বিচারপতির থেকে মামলা দায়েরের অনুমতি পেয়ে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং কংগ্রেস নেতা আবু হাসেম খান চৌধুরি হাইকোর্টে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনেছেন। এই বিষয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী জানিয়েছেন, আদালত ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দিলেও সেই নির্দেশ কার্যকর করেনি কমিশন। কংগ্রেসের তরফে আনা হয়েছে আর এক অভিযোগ। এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন পর্ব থেকেই সিসিটিভি ক্যামেরা নজিরদারির কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু রাজ্য নির্বাচন কমিশন তা কার্যকর করেনি। এই দু’টি অভিযোগের দ্রুত শুনানির আবেদনও জানিয়েছেন বিজেপি ও কংগ্রেস নেতা। তবে দ্রুত শুনানির আর্জি মঞ্জুর করেননি প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম।
আদালতের তরফে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছ থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু শনিবারই অনলাইনে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়ে রেখেছে রাজ্য ও কমিশন। সোমবার সর্বোচ্চ আদালতকে কমিশন জানিয়েছে যে, হাই কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করা সম্ভব নয়। নির্বাচনে নিরাপত্তার দায়িত্ব যেহেতু রাজ্য দেখে, তাই হাইকোর্টের অনুরোধ করা এক্ষেত্রে সাজে না বলেও জানিয়েছে তারা।
