রাজ্যে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়ন পর্ব শেষ হয়েছে। এবারের ভোটকে কেন্দ্র করে অশান্তির খবরও আকছার শোনা যাচ্ছে। এরই মধ্যে শাসকদলের জন্য স্বস্তির খবর। ২১৭ আসনের মধ্যে ২১৪ আসনে হবে না ভোট। এই আসনগুলিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতবে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হল? পিছু হটল বিরোধীরা?
গত সপ্তাহের শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন পর্ব। কিন্তু সেদিন থেকেই একের পর এক অশান্তির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। মুর্শিদাবাদে মনোনয়ন শুরুর পরপর দু’দিন অর্থাৎ শুক্র ও শনিবার অশান্তির অভিযোগ উঠেছে বিরোধীদের তরফে। মনোনয়ন জমা করার প্রক্রিয়ার মধ্যেই প্রথম দিনে গুলি চলে মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামে। ওইদিনই কংগ্রেসকর্মী ফুলচাঁদ শেখকে লক্ষ্য করে পরপর ৬ রাউন্ড গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয়। দ্বিতীয় দিনে মুর্শিদাবাদেরই ডোমকলে ফের বিরোধীদের মনোনয়ন জমা নিয়ে অশান্তির খবর আসে। এখানেই থেমে থাকেনি বিরোধীদের অভিযোগ। ইতিমধ্যে মনোনয়ন পর্ব শেষ হয়েছে। প্রথম দুদিনের ঘটনার প্রেক্ষিতে জারি হয়েছে ১৪৪ ধারাও। কিন্তু তবুও নানা অশান্তির ঘটনা ঘটেছে রাজ্যে। ভাঙড়, চোপড়ার ঘটনা রাজ্যবাসীর একাংশের মনে আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক হিংসার এই ঘটনাগুলিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম থেকে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তবে যে চোপড়া নিয়ে এত আলোচনা, সেখানে এবার একপ্রকার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই জিততে চলেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। উত্তর দিনাজপুরের এই এলাকার ৮টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ২১৭টি আসনের মধ্যে ২১৪টিতে বিরোধীরা মনোনয়ন জমাই দেয়নি বলে রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে। বলে দাবি সংবাদ মাধ্যম সূত্রে। যদিও বা বিরোধীদের দাবি, তাদের নমিনেশন দিতে দেওয়া হয়নি। শাসকদলের তরফে জানানো হয়েছে, বিরোধীরা মনোনয়ন জমা দিতে পারেনি, তাই তার দায় তৃণমূলের নয়। বিরোধীদের সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই মনোনয়ন জমা দিতে না পারার কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে শাসকদল।
চোপড়ার ৮টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মাত্র তিনটি বাদে সব আসনই বিরোধী-শূন্য। যে ৩টি আসনে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, সেখানেও দেখা গেছে ৩ জন নির্দল প্রার্থী। এই ৩টি আসনেও ভোট চাইছে না শাসকদল, এমনই অভিযোগ করছে বিরোধীরা। মনোনয়নের শুরু থেকেই বাধা দেওয়া হচ্ছিল বিরোধীদের। বৃহস্পতিবার শেষ দিনেও সেই দৃশ্য দেখা গেছে বলে বিরোধীরা দাবি করেছে। বাম-কংগ্রেস প্রার্থীরা কর্মী-সমর্থকদের মিছিলে হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের গুলিতে সিপিএম কর্মীর মৃত্যুর অভিযোগও উঠে এসেছে আলোচনায়। চোপড়ার এই অশান্তির ঘটনায় রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ব্যর্থতার কথা বলেছেন সিপিএমের জেলা সম্পাদক আনারুল হক। বৃহস্পতিবার পুলিশ প্রশাসনকে আগে থেকে জানিয়ে বহু চেষ্টা করে মনোনয়ন জমা দিতে গিয়েও পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছে বামেরা।
একই সুর শোনা গেছে বিজেপির জেলা সম্পাদক বাসুদেব সরকারের বক্তব্যে। বিরোধী কোনও শক্তিকেই শাসকদল চোপড়া অঞ্চলে নমিনেশন করতে দেয়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে বিরোধীদের নমিনেশন জমা দিতে যাওয়ার বিষয়টিকেই দায়ী করেছেন জেলা তৃণমূলের সভাপতি কানাইলাল আগরওয়াল। ৪ হাজার লোকের মিছিল নিয়ে কেউ মনোনয়ন জমা করতে যায়? দল বেঁধে গণ্ডগোল করাই লক্ষ্য ছিল সিপিআইএমের– এমনটাই বলতে শোনা গেল জেলা তৃণমূলের সভাপতিকে। এমনকী, বিরোধী কাউকেই বাধা দেওয়া হয়নি বলে পাল্টা জবাব দিয়েছেন তিনি।
