পঞ্চায়েত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জোড়া চ্যালেঞ্জের মুখে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর তরফে করা হয়েছিল জনস্বার্থ মামলা। সোমবারই ছিল এই মামলার শুনানির দিন। এদিন সকাল ১১ টা নাগাদ কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে উপস্থিত হন শুভেন্দু। এর আড়াই ঘণ্টার পর তাকে হাইকোর্ট থেকে বেরোতে দেখা গেল। আর বেরিয়েই যা বললেন, তাতে পালে হাওয়া পাচ্ছে বিরোধী দলের কর্মী সমর্থকরা। কী বললেন শুভেন্দু অধিকারী?
পঞ্চায়েত নির্বাচনের মামলার শুনানি চলাকালীন প্রায় আড়াই ঘণ্টা বসেছিলেন বিরোধী দলনেতা। এদিন সকাল ১১ ট বাজতেই হাইকোর্ট চত্বরে দেখা যায় শুভেন্দুকে। প্রথমার্ধের শুনানি চলাকালীন তাকে এজলাসেই বসে থাকতে দেখা যায়। প্রথমার্ধের শুনানি হয় প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে। এই পুরো সময়ি তিনি মামলাকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলে প্রধান বিচারপতির এজলাসে। এরপর বেরিয়েই আশাবাদী দেখা গেছে শুভেন্দুকে।
সোমবার সকালে ঘড়ির কাঁটা তখনও ১১ টার ঘরে যায়নি। দেখা গেল হাইকোর্টের সামনে গাড়ি থেকে নামছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আড়াই ঘণ্টা পর আদালত কক্ষ থেকে বেরিয়েই চেনা মেজাজে দেখা যায় শুভেন্দুকে। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণের কথা বলে তিনি জানান যে, গণতন্ত্র পুনরায় স্থাপন করার জন্য এবং অবাধ ও ভয়মুক্ত নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে চায় উচ্চ আদালত।
গত সপ্তাহে পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিন ঘোষণা হতেই বিরোধীরা কমিশনের কয়েকটি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করতে শুরু করেন। কংগ্রেসের তরফে অধীর চৌধুরি এবং বিজেপির তরফে শুভেন্দু অধিকারী হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। সেখানে মূল নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন বাড়ানো এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করানোর আবেদন জানানো হয়েছিল।
মামলাকারী হিসেবে শুভেন্দু যে আজ আদালতে উপস্থিত ছিলেন, তা তিনি নিজেই জানিয়েছেন। এরপরই তিনি জানান যে, আদালত বুঝতে পেরেছে মামলাকারী কোনওভাবেই চাইছে না নির্বাচন বন্ধ করতে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বিরোহী দলনেতা এদিন আরও জানান, কমিশন ও রাজ্য সরকার আঞ্চলিক দল তৃণমূলের পক্ষ নিয়ে কাজ করছে।
এদিন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রাজ্য কমিশনকে বেশ কয়েকটি বিষয়ে আলাদা করে খেয়াল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। মনোনয়ন পর্বের সময় বাড়ানো থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত ভোটের দিন পিছিয়ে দেওয়া এবং আমজনতার নিরাপত্তার বিষয়টিও উঠে এসেছে হাইকোর্টের আলোচনায়।
