প্রাক্তন মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারী থেকে শুরু হয়েছিল। তার চাকরি বাতিলের পর সেই চাকরি পেয়েছিলেন শিলিগুড়ির ববিতা সরকার। এবার সেই চাকরি নিয়ে রাজ্য জুড়ে জল্পনা। কারণ মঙ্গলবার হাইকোর্টের নির্দেশে চাকরি হারালেন ববিতাও। শুধু চাকরি হারানোই নয়, পাশাপাশি ১৬ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। এবার সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে গেলেন ববিতা।
অঙ্কিতা অধিকারীর চাকরি ববিতার হাত ঘুরে হাইকোর্টের নির্দেশে পেলেন অনামিকা রায়। মঙ্গলবার এই নির্দেশ শুনেই আদালতে হাউ হাউ করে কেঁদে ফেললেন ববিতা। এর আগে আদালতের নির্দেশে অঙ্কিতা অধিকারীর চাকরি বাতিল হয় এবং প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা ফেরত দিতে হয়েছিল তাকে। চাকরি এবং এই পরিমাণ টাকা পেয়েছিলেন শিলিগুড়ির ববিতা সরকার। এরই মধ্যে ফের জটিলতা। মঙ্গল বার হাইকোর্ট জানিয়েছে, আগামী ৬ জুনের মধ্যে ১৫ লক্ষ ৯২ হাজার ৮৪৩ টাকা হাই কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে জমা করতে হবে ববিতাকে। সেই টাকাই যাবে অনামিকা রায়ের হাতে।
ববিতার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ ছিল, ফর্ম ফিল আপের সময় ববিতা যে নম্বর লিখেছিলেন, তা ভুল ছিল। তিনি স্নাতক স্তরে ৮০০ র মধ্যে ৪৪০ পেয়েছেন বলে সূত্রের খবর। শতাংশের হিসেবে তা হয় ৫৫ শতাংশ। কিন্তু তিনি ফর্মে এই নম্বর বাড়িয়ে লিখেছেন। ববিতার ‘ভুলে’র জন্যই চাকরি হারাতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এমনকী, আদালতে রীতিমতো ভর্ৎসনা করা হয় ববিতাকে। তবে এবার জাস্টিস গাঙ্গুলির নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে গেলেন তিনি। বিচারপতি সুব্রত তালুকদার এবং বিচারপতি সুপ্রতিম ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ববিতার আইনজীবী। এর পরই তিনি মামলা দায়েরের অনুমতি পেয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ।
চাকরি পাওয়ার ৬ মাসের মধ্যেই চাকরি খোয়ানোর পরিস্থিতির মুখে পড়েন ববিতা সরকার। আর এক এসএসসি পরীক্ষার্থী অনামিকা রায় হাইকোর্টে অভিযোগ জানান যে, ববিতা স্নাতক স্তরের শতকরা নম্বর বাড়িয়ে দেখিয়েছেন। আর তা ববিতার ‘অ্যাকাডেমিক স্কোর’ বেড়ে গিয়েছে এবং তিনি চাকরি পেয়েছেন। এই অভিযোগ পর্যবেক্ষণ করে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় এদিন ভুয়ো তথ্য দিয়ে আলাদতকে ভুল পথে পরিচালনার অভিযোগ তোলেন ববিতার বিরুদ্ধে। তবে ববিতা এই ভুলটা জানতেন না বলে দাবি করেন। মঙ্গলবারই তিনি জানিয়েছিলেন, এই মুহূর্তে ১১ লক্ষ টাকা ফেরত দিতে পারবেন। বাকি টাকা ফেরত দিতে একটু সময় লাগবে বলেও জানান জানান ববিতা। এরই মধ্যে ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ তিনি। একটা চাকরি নিয়ে নানা জটিলতা। এই মামলার শেষ কোথায়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজ্যবাসীর।
