১৮৬ ক্যারেটের কোহিনূর। এর চেয়েও আকারে বড় হিরে রয়েছে ঠিকই, কিন্তু এটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব সবাইকে ছাপিয়েছে। এখন রয়েছে ইংল্যান্ডের মিউজিয়ামে। আর তা ফিরিয়ে আনতেই দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার।
ভারতের সম্পদ ভারতকে ফেরত দিতে হবে। ১৮৬ ক্যারেটের কোহিনূর হিরেটি নিয়ে সরগরম বিশ্ব। ইতিহাস বলছে, গোদাবরী অববাহিকায় কাকাটীয় বংশের রাজত্বকালে গোলকোণ্ডা খনিতে এই হিরেটি পাওয়া গিয়েছিল। আর বিদেশি শক্তির আক্রমণে এদেশের সেই সম্পদ বহু হাত ফেরি করে এখন রয়েছে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে। টেমসের তিরে অবস্থিত‘টাওয়ার অফ লন্ডন’-এ রয়েছে সেই ঐতিহাসিক হিরেটি! এবার সেটি ফিরিয়ে আনতেই নাকি তোড়জোর শুরু করেছে ভারত। এমনটাই জানা গেছে ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড সূত্রে। কেন এই কোহিনূরটি ফিরিয়ে আনতে মরিয়া ভারত? তা জানতে হলে আগে এই হিরেটির ইতিহাস জানতে হবে। আসুন, জেনে নিই, ব্রিটিশ রাজপরিবারের সবচেয়ে সাড়া ফেলে দেওয়া সম্পদটি নিয়ে।
১৮৬ ক্যারেটের হিরেটির ইতিহাস জানার আগে এটা জেনে নেওয়া ভাল যে, এই ঐতিহাসিক কোহিনূরটি নিয়ে বিশ্ব দরবারে এতটাই আলোচনা চলছে যে, এবারের অভিষেকে কোহিনূরকে মুকুটে রাখেননি নব অভিষিক্তা রানি ক্যামিলা। বিতর্ক এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত? নব অভিষিক্তা রানি মুকুটে রাখলেন না, এই সিদ্ধান্তেই বোঝা যায় কোহিনূর হিরেটির গুরুত্ব। একটি ব্রিটিশ ট্যাবলয়েডে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন বেরিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে দিল্লি এবং লন্ডনের ভারতীয় দূতাবাসের তরফে তুমুল কূটনৈতিক তোড়জোড় শুরু হয়েছে হিরেটি নিয়ে। আর এক্ষেত্রে এই কোহিনূর হিরেটি তো রয়েইছে, পাশাপাশি বিলেতের নানা সংগ্রহশালায় থাকা একাধিক বহুমূল্য ধনদৌলত সরকারিভাবে এদেশে ফিরিয়ে আনতে চাইছে ভারত। তবে সবকিছুর মধ্যে একা নজর কেড়েছে টাওয়ার অফ লন্ডনে থাকা হিরেটি। ধনসম্পদের দিক থেকে ভারত ঐশ্বর্যশালী হওয়ার কারণেই বিদেশি শক্তিরা অতীতে ভারতকে আক্রমণ করেছিল। এর মধ্যে বিশ্বের একমাত্র হিরে উৎপাদক দেশ হিসেবে ভারতের সুনাম ছিল। শুধু সুনাম বলা ভুল, অষ্টাদশ শতকের শুরুর সময় পর্যন্ত দীর্ঘদিন ভারতই ছিল একমাত্র হিরে উৎপাদক দেশ। ১৭২৫ সাল নাগাদ ব্রাজিলে হিরের খনি আবিষ্কার হওয়ার আগে পর্যন্ত এই ধারা বজায় ছিল। গোলকোণ্ডার খনি-সহ অন্যান্য জায়গায় মিলত হিরে। দাক্ষিণাত্যের রাজারা এই বিষয়ে জানতেনও। তবে কোহিনূর নিয়ে এতটাই সাড়া ফেলেছিল যে, এই মহামূল্যবান সম্পদই ছিল এর অধিকারীর কাছে অভিশাপের মতো। যার কাছে যখন এটি থাকত, সে-ই ক্ষতির মুখে পড়েছে। ইতিহাস বলে, নাদির শাহের দিল্লি আক্রমনের জেরে এই কোহিনূর চলে যায় পারস্যে। এরপর মধ্য এশিয়া ঘুরে এসে পৌঁছয় আফগান নৃপতি আহম্মদ শাহ আবদালির হাতে। আর সেখান থেকেই কোহিনূরের মালিক হন লাহোরের মহারাজা পাঞ্জাব কেশরী রঞ্জিত সিংহ। যদিও তিনি অত্যন্ত বুদ্ধিমান ছিলেন। তাই ইংরেজদের সঙ্গে শান্তি বজায় রাখতে বিশেষ কূটনীতির সাহায্য নিয়ছিলেন। কিন্তু তার শাসনকালের পরই সমস্যা জটিল হয়। শিখ বাহিনীর সঙ্গে ব্রিটিশের লড়াই বেঁধে যায়। স্যার হিউ গঘ, হেনরি হার্ডিঞ্জ, ওয়াল্টার গিলবার্টের মত পোড়খাওয়া সেনাকর্তারাও হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিলেন শিখ শক্তির দাপট। যদিও শেষরক্ষা হয়নি। হার মানতে হয় শিখদের। এরপর হয় লাহোরের চুক্তি। আর সেখান থেকেই এই কোহিনূরটি চলে যায় মহারানি ভিক্টোরিয়ার কাছে। এরপর সময় বদলেছে। ভারত স্বাধীন হয়েছে। ব্রিটিশ সরকারকে এই হিরেটি নিয়ে বারবার অনুরোধও করা হয়েছে। কিন্তু তাদের থেকে কোনও সদুত্তর মেলেনি। এবার সেই হিরেটি আনতেই মরিয়া নরেন্দ্র মোদি সরকার। যদিও শেষ পর্যন্ত কী হবে, তা বলা যাচ্ছে না এই মুহূর্তে। আদৌ কি ভারত নিজের সম্পদ ফিরে পাবে? ঐতিহাসিক কোহিনূরটি ফিরিয়ে আনতে পারবে কি নরেন্দ্র মোদি সরকার?
