মাঝেমধ্যেই বিস্ফোরক দাবি করতে শোনা যায় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। বাক্যবাণে শাসকদলের একের পর এক নেতা-মন্ত্রীর নাম করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মন্তব্য করতে শোনা গেছে শুভেন্দুকে। তবে পঞ্চায়েত নির্বাচনের এবার যে দাবি করলেন, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে বাংলার রাজনীতিতে। যদিও তৃণমূলের তরফে তার দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়ে উলটো যুক্তি খাঁড়া করা হয়েছে। আর তা নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়েছে রাজ্যে। প্রশ্ন উঠছে, সত্যিই কি উপমুখ্যমন্ত্রিত্বের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী? নাকি তৃণমূলের তরফে করা অভিযোগই সত্যি?
পঞ্চায়েত ভোট একেবারে দোরগোড়ায়। এরই মধ্যে বুধবার পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা-১ ব্লকের দুবদায় সভা ছিল বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর। নির্বাচনী প্রচারের সেই সভা থেকে তিনি দলবদলের আগের সময়ের স্মৃতিচারণ করেন। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাস নাগাদ তাকে দলে রাখার জন্য তৃণমূল আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল বলে দাবি করেন বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী।
এগরার সভা থেকে বিরোধী দলনেতা বলেন, ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে দলবদলের আগে তিনি পাঁচটা দফতরের মন্ত্রী ছিলেন। এছাড়াও হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদ, এইচআরবিসি– সব ফেলে চলে এসেছিলেন বিজেপিতে। আর এখানেই থেমে থকেননি শুভেন্দু। অতীতের কথা বলতে গিয়ে তিনি এও বলেন, ২০২০ সালের পয়লা ডিসেম্বর তাকে উপমুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তবও দেওয়া হয়েছিল শাসকদলের তরফে। সেই প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শুভেন্দু? তার জবাবও এদিন দিয়েছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গকে বাঁচাতে হবে, রাজ্যবাসীকে বাঁচাতে হবে– এই উদ্দেশ্যেই তিনি সমস্ত অফার ছুড়ে ফেলে দিয়ে এসেছিলেন বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী।
আর বিরোধী দলনেতার এই মন্তব্যের পরই মুখ খুলেছেন তৃণমূলের দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। এদিন শুভেন্দুর দাবির প্রেক্ষিতে কুণাল বলেন, শুভেন্দু সবই বলেছেন, কিন্তু সিবিআইয়ের এফআইআরের কথাটা বললেন না? এরপরই বিরোধী দলনেতাকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, আসলে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতারির ভয়ে গিয়ে বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন। এছাড়া নন্দীগ্রাম-সহ গোটা পূর্ব মেদিনীপুর এবং গোটা রাজ্যে হার নিশ্চিত জেনে প্রাসঙ্গিক থাকার জন্যই কাল্পনিক গল্প বানিয়ে বলছেন বলে মন্তব্য করেন তৃণমূলের মুখপাত্র।
তবে এদিন কুণাল ঘোষ শুভেন্দুর দাবি করা উপমুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাব নিয়েও কথা বলেছেন। এগরার সভা থেকে বিরোধী দলনেতা যে দাবি করেছেন, তার ঠিক উলটো কথা শোনা গেছে কুণালের বক্তব্যে। উপমুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাব শুভেন্দুকে দেওয়া হয়নি, উলটে শুভেন্দুই নাকি উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন দলের এক নেতার কাছে। কিন্তু তার সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছিলে দল, এমনটাই জানান তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক।
২০২০ সালে নানা গুঞ্জনের মধ্যেই তৃণমূল ছেড়েছিলেন বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। শাসকদলের থেকে বেরিয়ে দু’দিন বাদেই অর্থাৎ ডিসেম্বর মাসের ১৯ তারিখ অমিত শাহের উপস্থিতিতে গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে এতদিন এই নিয়ে বিশেষ মন্তব্য করতে শোনা যায়নি বর্তমান বিরোধী দলনেতাকে। কিন্তু রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আবহে এবার অতীতের কথা বললেন তিনি। আমজনতা অবশ্য বরাবরের মতো ধন্দে, কে ঠিক বলছেন, শুভেন্দু? নাকি কুণাল? আসলে কিছু হোক বা না হোক, বাক্যবাণে একে অন্যকে বিদ্ধ করার রাজনৈতিক সংস্কৃতি তো এখন বাংলার কোণে কোণে ছড়িয়ে গেছে বলেই মনে করছেন রাজ্যবাসীর একটা বড় অংশ।
